সুপারমার্কেট কর্মী থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল দলে

নিউজিল্যান্ডের পুরুষ রাগবি দলের কোচ হলেও ফুটবলের প্রতি অগাধ টান অনুভব করেন ইয়ান ফস্টার।  তাই তো ঘরের মাঠে নারী ফুটবল বিশ্বকাপ দেখার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাননি।  উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য আগে থেকেই কেটে রেখেছিলেন টিকিট।  তখন ঘুণাক্ষরেও টের পাননি সেই ম্যাচেই খেলতে পারেন তারই মেয়ে মাইকেলা ফস্টার।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে শুরু হচ্ছে নারী বিশ্বকাপের নবম আসর।  বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন কার না থাকে।  ২৪ বছর বয়সী মাইকেলার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে ঘরের মাঠেই।

অথচ কিছুদিন আগেও সুপারমার্কেট কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন এই ডিফেন্ডার।  গত অক্টোবরে মাইকেলাকে ‘স্কলারশিপ কন্ট্রাক্টে’ দলে ভেড়ায় নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগের ক্লাব ওয়েলিংটন ফিনিক্স।  কিন্তু ফুটবল খেলে রোজগার হতো সামান্যই।  তাই ফুটবলের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য বিকল্প উপায় খুঁজেন মাইকেলা।  চাকরি শুরু করেন স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে।

যদিও এর আগে স্কুল শিক্ষক ছিলেন তিনি, সেটাও ফুল-টাইম।  কিন্তু চাকরিটা ছাড়তেই হলো মাইকেলাকে।  কেননা স্বপ্নের পেছনে ছোটার সিদ্ধান্ত যে নিয়েছিলেন তিনি।  সেই পরিশ্রম বিফলে যায়নি।

ফিনিক্সের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে।  গত ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অভিষেক হয় তার।  ইতোমধ্যেই চার ম্যাচ খেলে ফেলেছেন এই লেফট ব্যাক।  পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তাকে জায়গা করে দেয় বিশ্বকাপে।  তাই শেষ ৯ মাস অন্যরকমভাবে কেটেছে তার।

বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েই প্রথমে বাবাকে সেই সুখবর দেন মাইকেলা, ‘আমার মনে হয়, কলটি ধরার জন্য মিটিং থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছিল তাকে (বাবা), তবে বেশি আলাপ না হলেও খুবই গর্বিত ফোন কল ছিল সেটি।  এরপর আমি মায়ের সঙ্গে ফোনে এক ঘণ্টা এনিয়ে কথা বলি।  তাদের দুজনের সঙ্গে মুহূর্তটি ভাগাভাগি করে নেওয়াটা সত্যিই স্পেশাল ছিল। ’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।  গ্রুপে তাদের অন্যান্য প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন্স ও সুইজারল্যান্ড।