কর্ণফুলী নদীর দুই পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে নৌ চলাচল বন্ধ রেখে অনশন করেছেন সাম্পান মাঝিরা। বুধবার (৯ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চাক্তাই খালের মোহনায় অনশন করেন তারা। চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন নামে একটি সংগঠন এই অনশন ধর্মঘটের আয়োজন করেন। অনশন ধর্মঘটে একাত্মতা ঘোষণা করে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামসহ আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন।
অনশন কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা কর্ণফুলী তীরে অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্ণফুলী নদীকে দখল দূষণ করে পঙ্গু করা হচ্ছে। নদীর দূষণে ৭০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই কর্ণফুলী তার স্বাভাবিক গতি প্রবাহ হারাবে।
দুপুর দুইটায় অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। অনশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা মেরিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নোমান আহমদ সিদ্দিকি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি চৌধুরী ফরিদ।
বকআরা বলেন, অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রটি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করার কারণেই এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছে না। আগামী পনের দিনের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী তীরে টিকে থাকা আড়াই শতাধিক বনজ ও ঔষধি গাছ সংরক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় আদালতের আদেশ অবমাননার অভিযোগ এনে যথাযথ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেন, পরিবেশ সংগঠন গ্রিন ফিঙ্গার্স এর কো ফাউন্ডার আবু সুফিয়ান রাশেদ, রিতু ফারাবি, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য লেখক দিলরুবা খানম, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি জাফর আহমদ, সহ সভাপতি লোকমান দয়াল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদরঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদ প্রমুখ।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, ২১৮১ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও তা সাড়ে তিন বছরেও কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। আমরা কি ধরে নেব সরকারের চেয়ে জেলা প্রশাসনের চেয়ে দখলদারগণ শক্তিশালী। জেলা প্রশাসন দখলদারদের শক্তি মোকাবেলা করতে অপারগ।