টার্গেট বাংলাদেশ

একটি নির্বাচন হবে বাংলাদেশে, তার জন্য কত দেন-দরবার, কত ফন্দি-ফিকির, কত আঁচ-অনুমান, কত উদ্যোগ-আয়োজন, কত বোলচাল। দেশের মধ্যে যেমন, বিদেশেরও নজর কেড়েছে বাংলাদেশের এই নির্বাচন। বরং দেশে যতটা না, বিদেশেরই যেন উৎসাহ, আগ্রহটা বেশি। অবস্থাদৃষ্টে মনে পড়ে যাচ্ছে সেই বাঙালি প্রবাদ – যেখানে বলা রয়েছে – ‘যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই’।

যাদের জন্য নির্বাচন, সেই বাংলাদেশের জনগণের যতটা না এই নির্বাচন নিয়ে উৎসাহী মনে হচ্ছে, বিদেশিদের তার চেয়ে বেশি উদগ্রীব দেখা যাচ্ছে। দফায় দফায় কখনো একা, কখনো সদলবলে কূটনীতিকরা আসছেন ইউরোপ, আমেরিকা থেকে। যেন তাদের আর কোন কাজ নেই। বাংলাদেশ তাদের টার্গেট হয়ে উঠেছে। কেন?

একথার উত্তরে বলতে হয়, বাংলাদেশ যেন চর্যাপদের সেই হরিণী, আপন মাংসই যার শত্রু ‘আপনা মাসে হরিণা বৈরী’। কিন্তু মানচিত্রে এমন এক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশ বিরাজ করছে, যা নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী কিংবা আটলান্টিকের ওপারের বিশ্ব রাজনীতির মোড়ল আমেরিকাও অপলক নেত্রে তাকিয়ে আছে বিশ্বকবির সোনার বাংলার পানে।

বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত যেমন, তেমনি চীন, ইউরোপ, আমেরিকার জন্য বাংলাদেশ সম্প্রতিকালে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মৃগয়া হয়ে উঠেছে। কারণ, বাংলাদেশও আগের সেই মিথ বা অতিকথা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৪তম অর্থনীতির দেশ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশিদের নাকগলানো নতুন কিছু নয়। তবে এবারকার নির্বাচনকে অধিক গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিগত দুটো নির্বাচন নিয়ে অনেকের নানা প্রশ্ন রয়েছে বিধায় এবারে সবার অংশগ্রহণমূলক যেনো হয় তার তৎপরতায় রয়েছেন কূটনীতিকরা। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউউ, ভারত, চীন রাশিয়া সবার দৃষ্টি বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে।

এদিকে সরকারী দল আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন তাদের সরকারের অধীনেই করার জন্য অনড় অবস্থানে রয়েছে। মাঠের বিরোধীদল বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাবে না অবস্থানে রয়েছে। ফলে দুই পক্ষকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে কূটনীতিকরা কয়েকমাস ধরে দৌড়ঝাপ করেই যাচ্ছেন। দুই দলের নেতাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকও করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুই পক্ষকে বাগে আনতে পারছে না।

নির্বাচন এগিয়ে আসছে। সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপে। ফলে চলতি জুলাই মাস অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ মাসেই নির্বাচন পরিস্থিতি ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুুিত তদারকি কিংবা বড় দুই দলের মধ্যে সংলাপ করার ইচ্ছে নিয়েই বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর প্রভাবশালি প্রতিনিধিরা আসছেন আগামী সপ্তাহে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার ঢাকা সফরে নির্বাচন নিয়ে ‘আলোচনা হতে পারে’, তিনি বলেন, আমি এটি বাদ দিচ্ছি না। কিন্তু এটি নির্বাচনকেন্দ্রিক সফর এটি ভাবাও ঠিক হবে না।’

উজরা জেয়ার আগামী ১১-১৪ জুলাই ঢাকা সফর করার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধি দল শুধু নির্বাচন নিয়েই কথা বলতে আসছে এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। এটি আমাদের মধ্যে যে মেকানিজমগুলো আছে সেটির একটি ধারাবাহিকতা। অনেক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এবং তার মধ্যে নির্বাচন আসতে পারে।’ কিন্তু এখানে অনেক ইস্যু আছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার, রোহিঙ্গা, শ্রমাধিকার, বাণিজ্য ইত্যাদি আমেরিকার সঙ্গে অনেক মেকানিজম কাজ করছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তার কাজের ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক। তার সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তার মধ্যে একটি হয়তো থাকতে পারে নির্বাচন।’

এর আগে জনক‚টনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, উজরা জেয়ার এই সফর ম‚লত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার এবং দুই দেশের সরকারের মধ্যকার যোগাযোগ জোরদার করার একটি প্রয়াস। সফরকালে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ ছাড়াও প্রতিনিধি দলটির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

একাধিক প্রতিনিধি দল

জুলাই মাসে একাধিক বিদেশি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবেন। বৃহস্পতিবার ( ৬ জুলাই) সকালে ঢাকায় পৌছেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) সৌরভ কুমার। সামনের সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধি দল আসবে। এছাড়া ইইউর নির্বাচন সংক্রান্ত অনুসন্ধানী অগ্রগামী দল এবং মানবাধিকার বিষয়ক ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর ঢাকায় আসবেন।

এসব সফর নির্বাচন সংক্রান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় তিনটি বা চারটি প্রতিনিধি দল আসে। এর মানে এই নয় যে আগে থেকে সমন্বয় করে তারা সময়টি ঠিক করে আসে। সুতরাং এখানে বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। এগুলোর তারিখ আগে থেকে ঠিক করা থাকে।’

একটি দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বৈঠক হয়। আমাদের দেশে কম হয়। ভারত বা অন্য দেশের তুলনায় কম হয়। এই অনেক বৈঠকের একটির সঙ্গে অন্যটির হয়তো কোনও সম্পর্ক নেই বলে তিনি জানান।

এদিকে বুধবার (৫ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির বাসভবনে আয়োজিত একটি চা-চক্রে ১২টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা অংশ নেন।

এতে মার্কিন রাষ্ট্রদ‚ত পিটার ডি হাস, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদ‚ত ম্যারি মাসদুপুই, কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো সেইজফ্রিড রেংলি, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ক্রিস্টোফার, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো দি আসিস বেনেতিজ সালাস, জার্মানির ডেপুটি হাইকমিশনার জ্যান জেনোভস্কি, জাপানের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত তাতসুয়া মাসিদা, সুইডেন দূতাবাসের কাউন্সিলর জ্যাকব ইতাত, ইতালি  দূতাবাসের ডেপুটি প্রধান মাতিয়া ভেঞ্চুরা, বৃটিশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা সাইমন লিভার, নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ম্যাটথিজিস জেল উডস্ট্রা অংশ নেন বলে জানা গেছে।

পিটার হাসের তৎপরতা

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস গত বুধবার ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় আসার পর এদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা কাটিয়েছেন তিনি। বৈঠক করেছেন দুই দফায়।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেলা ১১টার দিকে যান পিটার হাস। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠকটি চলে। এর পর তিনি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সঙ্গে।

দ্বিতীয় বৈঠকটি চলে পৌনে এক ঘণ্টা; বেলা ১১টা ৪২ থেকে ১২টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত। চলমান রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো এ দুই বৈঠক। তবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলেও সেখানে কী কী বিষয় আলোচিত হয়েছে, জানা যায়নি। এ নিয়ে উভয় পক্ষই নীরবতা অবলম্বন করছে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ, দাতা দেশ, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো চায় বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক তথা ভোট দেয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিতে। চায় মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো দুই-তিন বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য ‘নতুন ভিসা নীতি’ ঘোষণা করেছে। ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও কর্তা ব্যক্তিদের ওয়াশিংটনে ডেকে নিয়ে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে’ জানিয়ে দিয়েছেন।

শুধু তাই নয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বিগত দুই বছর ধরে দফায় দফায় ঢাকা সফর করে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। ঢাকায় কর্মরত রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

কিন্তু ক্ষমতাসীন দল সংবিধানের কথা বলে ফের ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন করার পায়তাঁরা করছে। আর মাঠের বিরোধী দল বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না এবং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে।

নির্বাচনের আর মাত্র ৬ মাস বাকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এর মধ্যেই চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি প্রতিনিধি দল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দু’টি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছেন। ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকায় এসে কি করবেন, কাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, কি কথাবার্তা বলবেন, সংলাপের আয়োজন করবেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোটের অধিকার ফিরে পাবেন নাকি ফের ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো পাতানো নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাবে তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ।

সর্বত্রই আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক চলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কি বার্তা দেবেন? আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কি আলোচনার টেবিলে আনতে পারবেন? ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাই বা কোন ধরনের বার্তা নিয়ে ফিরে যাবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসেম্বরের শেষ বা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সাপ্তাহে ভোটের আয়োজন হলে নির্বাচনের প্রস্তুতি এখনোই শুরু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সময় একেবারেই নেই। ফলে জুলাই মাসে মার্কিন প্রতিনিধিদের ঢাকা সফর নির্বাচনের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদের আসন্ন সফরকে স্বাগত জানাব। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সময় কাটবে। বাংলাদেশ সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মার্কিন প্রতিনিধিদল নির্বাচনের বিষয়ে পরামর্শ দিলে ঢাকা স্বাগত জানাবে। নির্বাচনের বিষয়ে তাদের কোনো উজ্জ্বল ধারণা থাকলে আমরা তা পছন্দ করতে পারি।

এর মধ্যে পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য ৯ জুলাই ইইউ’র ৬ সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় আসবেন। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন নির্বাচন বিষয়ে অভিজ্ঞ ইতালীয় নাগরিক রিকার্ডো চিলিলিয়ার। প্রতিনিধি দলটি দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করবে।

এই মিশনের সুপারিশের আলোকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। অনুসন্ধানী এই প্রতিনিধি দল প্রধানত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। তারা প্রধানত দু’টি বিষয়ের ওপর জোর দেবে।

একটি হচ্ছে নির্বাচনের আগে এদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও দ্বিতীয়টি হচ্ছে নির্বাচনি কাঠামো। এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সুপ্রিমকোর্ট, নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এ মধ্যেই ২৪ জুলাই থেকে কয়েক দিনের সফরে আসবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমোন গিলমোর। তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে গত বুধবার ( ৬ জুলাই)  তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আগমন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বার্তাই বহন করে। এই আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই।

এ সময় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা এসেছেন এবং সহসাই আরও বেশ কয়েকজন আসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রায়ই আসছেন এবং চলতি মাসে সে দেশের পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের আসার কথা রয়েছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তাদের সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা রয়েছে এবং বিশ্বাঙ্গনেও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা কাজ করি। বাংলাদেশের উন্নয়নেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরাট ভ‚মিকা রাখছে।’

এর আগে গত জানুয়ারিতে ঢাকা সফর করেন মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

দুইদিনের ওই সফরে তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সরকারের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড লু’র সফরের ফলোআপ হিসেবেই উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।