খালেদাসহ ৪০ লাখ বিএনপি নেতা কর্মী লক্ষাধিক মামলার আসামি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় লক্ষাধিক মামলা রয়েছে। গত ১৫ বছরে দায়ের হওয়া এসব মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এর মধ্যে এমনও অনেক নেতা বা কর্মী আছেন কারো কারো বিরুদ্ধে একশ’ থেকে ৪ শতাধিক পর্যন্ত মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী কারাগারে রয়েছেন।

একই সময়ে এমনও অনেক নেতা রয়েছেন ৫ থেকে ৮ বারেরও অধিক সময় কারাভোগ করেছেন। আবার কেউ কেউ নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। বলা যায় মামলায় জর্জরিত হয়ে আছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, এসব মামলার মধ্যে ৯৯ ভাগই মিথ্যা মামলা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। আবার মামলার অনেকগুলোর আসামি অজ্ঞাত। তাই ইচ্ছে করলেই যে কাউকেই সেসব মামলায় গ্রেফতার করা যেতে পারে। এভাবে মামলার পর মামলা দিয়ে সরকার বিএনপিকে কোণঠাসা করে রাখতে চায়। তারা বলছেন, এসব মামলা নির্বাচনে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যাতে আগামী নির্বাচনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। সেজন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের অধিক পুরোনা মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে।

এদিকে ডিএমপি’র সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র মতে, ইতিপূর্বে আন্দোলনের নানা কর্মসূচি পালনকালে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। যেসব মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে, সেসব মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদনের মাধ্যমে চালু করতে ইতোমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৬টি। এর মধ্যে ২টি মামলায় সাজা হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। যদিও এখন তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে গুলশানে নিজ বাসভবনে রয়েছেন। একইভাবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৫০টি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধেও অন্তত ৯৩টি মামলা হয়েছে। যার কোনটি গাড়ি পোড়ানো, কোনটি ককটেল বিস্ফোরণ, নাশকতা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ময়লার গাড়ি ভাঙচুর ইত্যাদি।

তবে ব্যক্তিগত মামলার দিক দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৫১টি। মামলার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ৩২৪টি, তৃতীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু ৩০০টি, যুবদলের সাবেক নেতা এসএম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ২৭৭টি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ২৫৪টি মামলা। একইভাবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ১৮০টি মামলা, ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ১৩৫টি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ১৩৪টি মামলা।

বিএনপির দলীয় সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৭টি, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ৪টি, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩টি, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৪৮টি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ৩২টি, ড. আব্দুল মঈন খানের ১টি, নজরুল ইসলাম খানের ৬টি, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ৬টি, ভারতে অবস্থানরত মো. সালাহ উদ্দিন আহম্মেদের ৩৫টি, বেগম সেলিমা রহমানের ৪টি ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে ৩টি, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের ৭টি, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রমের ৫টি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ১১টি, বরকত উল্লাহ বুলুর ১৩৫টি, মো. শাহজাহানের ১৭টি, কারাবন্দী আব্দুস সালাম পিন্টুর ১৯টি, মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর ৯টি, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ৪টি, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের ১৭টি, শামসুজ্জামান দুদুর ১১টি, আহমদ আযম খানের ৬টি, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের ১৮টি ও অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর ৯টি। এছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ১৩৪টি, মিজানুর রহমান মিনুর ১৮টি, জয়নাল আবেদীন ফারুকের ১২টি, প্রফেসর জয়নাল আবেদিনের (ভিপি) ৭টি, মনিরুল হক চৌধুরীর ৩টি, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ১৪টি, হাবিবুর রহমান হাবিবের ১৫টি।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা ১৮০টি, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১১৯টি, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের ১৫টি, মজিবুর রহমান সরোয়ারের ১৪টি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ২৫৪টি, খায়রুল কবির খোকনের ২১টি, হবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৫১টি মামলা, হারুন অর রশিদের ১৪টি, ফজলুল হক মিলনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১৭টি ।

সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের বিরুদ্ধে ৪১টি, মাহবুবের রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ৯টি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ৪৭টি, বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ১৯টি, আসাদুল হাবিব দুলুর ১৪টি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের ৩টি, বিলকিস জাহান শিরিনের ১৭টি, শামা ওবায়েদের ৫টি।

বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনের বিরুদ্ধে ২টি, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর ৪৭টি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারের ১১টি, ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ৪টি, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের ১৭টি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মো. আমিনুল হকের বিরুদ্ধে ১৫টি,

সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বলের ৩টি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের ৯টি, কৃষি সম্পাদক শামসুজ্জোহা খানের ৭টি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুর ৮৭টি, গণশিক্ষা সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার ৫টি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং বিএনপির বন ও পরিবেশ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ১৬টি,

পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তীর ৭টি, গ্রাম সরকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবুর ৫টি, কারাবন্দী প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ৩৮টি, শিশু সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর ৬টি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আমজাদ হোসেনের ৪টি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন শওকতের ৫টি, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের ১২৬টি।

অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিশিরের ৯টি, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়ার ১১টি, আবু সাঈদ চাঁদের ১৪টি, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের ২২টি, মেজর হানিফের ৫টি, আকবর আলীর ১০টি, একেএম সেলিম রেজা হাবিবের ৬টি, মাহমুদুল হক রুবেলের ৯টি, খোরশেদ আলমের ৭টি, খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর ৩টি, হাসান উদ্দিন সরকারের ৯টি, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুর ১৪টি, তারিকুল আলম তেনজিংয়ের ৫টি, আবদুস সাত্তার পাটেয়ারীর ১৩টি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের ২১টি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের ১৯টি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে- যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর ৩০০টি, কারাবন্দী সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নার ১৪টি, সাবেক সহ-সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরের ২৭৭টি, সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৩২৪টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের ৯৮টি, বর্তমান সভাপতি এসএম জিলানীর ৪৫টি, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের ১৩৬টি, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের ৪টি, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের ৫৫টি, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের ২৮টি, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের ৪টি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জারিফ তুহিনের ৩টি, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের ৪৮টি, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের ২৪টি, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের ১৭টি,

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক দল-জাসাসের সভাপতি হেলাল খানের ৩টি, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের ১৪টি, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের ৩টি, তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের ১০টি, সদস্য সচিব হাজী মজিবুর রহমানের ৩টি, ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হকের ১টি, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলামের ২টি, মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের ১৪টি, সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের ১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রেখেছে। আমাদের এমন কোন নেতা নেই যাদের বিরুদ্ধে ৪০/৫০টা মামলা নেই। ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, ৬শ’র মতো মানুষকে গুম করেছে, সহস্্রাধিক হত্যা করেছে। গত এক মাসেই ৩৮৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো কারাগারে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বন্দী আছে। অনেক নেতাকর্মীর এখন সময় কাটে আদালতে হাজিরা দিয়ে আর আগাম জামিনের জন্য দৌড়াদৌড়ি করে। কেন? কারণ একটাই বিএনপিকে নিঃশেষ করে দেয়া, আন্দোলন দমন করা।
তিনি বলেন, আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, এসব মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করবার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এই আন্দোলনকে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে বন্ধ করা যাবে না। জনগণ জেগে উঠেছে, জনগণের উত্থানের মধ্য দিয়ে এই অবৈধ, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরে যেতে হবে, পরাজিত হতে হবে।

এর আগে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কানে এসেছে যে ১ হাজার ৩০০ মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলাগুলো নির্বাচনের আগেই শুনানি শেষ করে সাজা দিয়ে দেওয়া হবে। সবই রাজনৈতিক মামলা এবং আসামি হচ্ছেন বিএনপিসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপি নেতাদের যদি মামলায় আটকে ফেলা যায়, সাজা দিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে তাদের (আওয়ামী লীগের) কথা মতো সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারবে।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সরকার পুরনো মিথ্যা-বানোয়াট মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করছে বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্য। এটি সরকারের একতরফা নির্বাচনের ব্লু প্রিন্টের অংশ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনীর কিছুসংখ্যক অতি উৎসাহী সদস্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। বিরোধী দলকে দমন করার সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে এই মিথ্যা মামলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব মামলার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ যেটি নেওয়ার, সেটি নেব। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলাগুলো করা হয়েছিল, আর রাজনৈতিক কারণেই মামলাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। তাই এসব মামলার মোকাবিলা আমরা রাজনৈতিকভাবেই করব। রাজপথে এসব মামলার ফয়সালা হবে।