মহিউদ্দিন বাচ্চু স্বশিক্ষিত, সম্পদ আছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার

নির্বাচন কমিশনে হলফনামা পেশ

চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও খুলশী) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর রয়েছে ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য।

হলফনামায় মহিউদ্দিন বাচ্চু নিজেকে স্বশিক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁর নামে কোনো মামলা নেই।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, মহিউদ্দিন বাচ্চু ব্যবসা থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৫ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে মহিউদ্দিন বাচ্চুর নগদ টাকার পরিমাণ ৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৪৫ টাকা। ব্যাংকে নিজের নামে অর্থ না থাকলেও নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে তার নামে ২ কোটি ৮২ লাখ ২২ হাজার ৬০৬ টাকার ঋণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১ কোটি টাকার। তার গাড়ি রয়েছে দুটি, যার মূল্য ৯০ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে ৯০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে।

বাচ্চুর স্ত্রীর নামে ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ টাকার, স্বর্ণালংকার রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকার এবং আসবাবপত্র রয়েছে ১ লাখ টাকার। গত রোববার ২৮ জনকে ডিঙিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান মহিউদ্দিন বাচ্চু।

গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে (২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮) এ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. আফছারুল আমীন। ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে ২ জুন তার মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ৩০ জুলাই এ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৪ জুলাই, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৬ জুলাই, আপিল দায়ের করা যাবে ৭ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১১ জুলাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ জুলাই এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৩ জুলাই। আগামী ৩০ জুলাই ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট হবে ইভিএমে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যদি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে হিসেবে এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মেয়াদ থাকবে মাত্র ৩ মাস। যথারীতি এই উপনির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। কোনো শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীও নেই। ফলে এই উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তার জয় অনেকটা সুনিশ্চিত।