যদি ঈদের দিন বৃষ্টি না হয়, তবে মহানগরীকে বিকেল ৫টার মধ্যেই বর্জ্যমুক্ত করতে চান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। মাঠ পর্যায়ে তাঁর সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে ৩৪৫টি ট্রাকযোগে দিনভর ৪ হাজার ৩০০জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করবেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার (২৭জুন) সরেজমিনে চট্টগ্রামে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি দেখতে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। এই সময় তিনি জানান,নগরে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই শেষ করতে চান।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো এবারেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, আমরা সকাল ১১টা থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শুরু করব। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে বিকেল ৫টার মধ্যে নগর বর্জ্যমুক্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। তবে অল্প কিছু প্রান্তীয় এলাকায় কিছু জটিলতার কারণে কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সে জন্য ৪ হাজার ৩০০ শ্রমিক এবং ৩৪৫টি ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন দিয়ে বর্জ্য পরিষ্কার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সিটি মেয়র আরো জানান, পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে এবার আমরা পশুর নাড়ি-ভুড়ি নেওয়ার জন্য পলিব্যাগও দিচ্ছি। ঈদ-উল-আজহার প্রধান জামাতের জন্য চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ মাঠ সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে মেয়র রেজাউল বলেন, এবার সকাল সাড়ে ৭টায় ও সাড়ে ৮টায় দুটি জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৫০টি ফ্যান, আর শামিয়ানা টাঙ্গানো থাকবে। অজু করার জন্য মসজিদের অজুখানার পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়িতে পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য থাকছে সিসিটিভি মনিটরিংসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষিত সদস্যরা। পাশাপাশি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত¡াবধানে ওয়ার্ডগুলোতে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
‘স্বাভাবিক বৃষ্টিতে নামাজ বিঘ্নিত না হওয়ার জন্য মসজিদের আশপাশের নালাগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টি হলে পানির ঝাপটা থেকে বাঁচতে স্টেজের চারপাশে কাপড়ের পর্দা দেওয়া হবে। তবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে পানি উঠলে মসজিদের ভেতরে ঈদের জামাত হবে ’ বলে মেয়র জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম, পুলক খাস্তগীর, মেয়রের একান্ত সচিব ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী আকবর আলী, ঝুলন কুমার দাশ, উপ-সচিব আশেক রসুল চৌধুরী (টিপু), নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা ফজলুল কাদের, তৌহিদুল হাসান, সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোছাইন খোকা, অনিক দাশগুপ্ত, শাফকাত বিন আমিনসহ চসিকের কর্মকর্তারা।