বছরখানেক আগেও বেহাল অবস্থায় পড়েছিল সড়কটি। দুর্ভোগের শেষ ছিল না স্থানীয়দের। চার কিলোমিটার পথ গাড়িতে করে যেতে সময় লাগত এক ঘণ্টারও বেশি। এখন মাত্র ১০ মিনিটেই সেই পথ পার হওয়া যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সম্প্রতি উন্নয়নের আওতায় আসায় বদলে গেছে পুরো ইউনিয়নের চিত্র।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুঃখ হিসেবে খ্যাত এ সড়কটি সংস্কার হওয়ায় এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের শত-শত মানুষ। পাঁচ বছর আগে খিরাম অঞ্চলটি সমৃদ্ধ নানুপুর ইউনিয়নের অধীনে থাকলেও সড়কটির করুণ দশার কারণে এতদিন পিছিয়ে ছিল। নানুপুর-খিরাম সড়কটি এ ইউনিয়নের প্রধান সড়ক। এখানকার হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে।
জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সর্বপ্রথম ব্রিক সলিংয়ের আওতায় আসে ১৯৯৭ সালে। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক মাঝে-মধ্যে মেরামতের উদ্যোগ নিলেও বড় ধরনের উন্নয়ন দেখা যায়নি। যার ফলে সড়কটির বেশিরভাগ অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় যানবাহন চলতে গিয়ে ঘটত দুর্ঘটনাও। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় চেষ্টা-তদবির করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।
জানা যায়, এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভ নির্বাচিত হয়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সাংসদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে সম্প্রতি সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, নানুপর থেকে খিরাম চৌমুহনী বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় সবুজ প্রকৃতিতে ঘেরা সমতল-টিলার সংমিশ্রণে আঁকা-বাঁকা সড়কটি দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে।
এ বিষয়ে খিরাম ইউপি চেয়ারম্যান সোহবার হোসেন সৌরভ বলেন, খিরাম একটি প্রাকৃতিক সম্পদ ও শস্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ ইউনিয়ন। এলাকার সাধারণ মানুষ ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহনে একমাত্র ভরসা নানুপুর-খিরাম সড়কটি। দীর্ঘ সময় এটি সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে অঙ্গীকার করেছিলাম নির্বাচিত হয়ে সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চার কোটি টাকা বাজেটে সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে। এজন্য ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে ধন্যবাদ জানান চেয়ারম্যান সৌরভ।
এমএইচএফ