তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল স্বাগতিক শ্রলিংকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে। মঙ্গলবার (৯ মে) দিনের শুরুতে প্রথমে ব্যাট করে লঙ্কানরা সংগ্রহ করে ১৪৫ রান। দারুণ ফিফটিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিগার। চার নম্বরে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে করেছেন ৭৫ রান। ৫১ বলের অধিনায়কোচিত ইনিংস সাজিয়েছেন ৭ চার ও ২ ছয়ে। জ্যোতির ক্যারিয়ার সেরা ৭৫ রানে ভর করে ১ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলার বাঘিনীরা।
এই সংস্করণে দীর্ঘ ৯ বছর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ৩ রানে জিতেছিল তারা। এরপর টানা সাত ম্যাচ জেতে লঙ্কানরা। অষ্টমবারে সাফল্য পেলেন নিগার, রিতু মনিরা।
টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৪২ রান তাড়া করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদরা।
মঙ্গলবার দিরে শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই বিশ্মি গুনারত্নের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ফারিহা তৃষ্ণার বলে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ দেন ১১ রান করা ১৭ বছর বয়সী ওপেনার।
শুরুর ধাক্কা সামাল দেন আতাপাত্তু। ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে খেলেন ২৮ বলে ৩৮ রানের ইনিংস। তাকে থামান নাহিদা আক্তার। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে সোবহানার হাতে ক্যাচ দেন আতাপাত্তু।
অধিনায়কের বিদায়ের পর দলের ইনিংস এগিয়ে নেন হার্শিথা সামারাবিক্রমা ও নিলাকশি ডি সিলভা। ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৪৫ রানে থামেন হার্শিথা। অভিষিক্ত সুলতানা খাতুনের বলে ফারিহার হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটার।
এরপর হাসিনি পেরেরা, কাভিশা দিলহারি, আনুশকা সাঞ্জিবানিদের বেশি কিছু করতে দেননি ফাহিমা খাতুন, রাবেয়ারা।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ২৮ বলে ২৯ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে দেড়শ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ এনে দেন নিলাকশি। যা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না টাইগ্রেসদের। কেননা ব্যক্তিগত ৫ রানে শামীমা সুলতানা এবং রুবায়া হায়দায় ফেরেন ৯ রান করে। এরপর তিন নম্বরে নামা সোবহানা মুস্তারিকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে দলীয় ৭৪ রানে এই দুই ব্যাটারের জুটি ভেঙে যায়। ব্যক্তিগত ১৭ রান করেই ফিরে যান সোবহানা।
ব্যাট হাতে তখনও লড়ছিলেন জ্যোতি, তার সঙ্গে যোগ দেন রিতু মনি। সেই জুটিতে একের পর এক বাউন্ডারিতে বাংলাদেশ জয়ের দিকেই এগোতে থাকে। অর্ধশতক তুলে নেওয়া জ্যোতিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যান রিতু। তবে শেষদিকে ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়ে সফরকারীদের জন্য। কারণ ২ ওভারে তখন দরকার ছিল ২৫ রান।
প্রথম ওভারে ১৭ রান নিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ সহজ করে তোলেন জ্যেতিরা। ফলে শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ৮ রান। সেই ওভারের প্রথম বলেই চার মারেন রিতু। এরপর সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইকে গিয়ে দুই রান দেন জ্যোতি। নাটকীয়তার তখনও কিছুটা বাকি। ব্যাক্তিগত ৩৩ করা রিতু রান আউটের ফাঁদে পড়েন। অবশ্য তখন জয় পাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। শেষ দুই বলে ১ রান প্রয়োজন হলে জ্যোতি সিঙ্গেল নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৫১ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। লঙ্কানদের হয়ে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন উদেশিকা প্রবধোনি, কেউয়া কাভিন্দি ও ওশাদি রানাসিঙ্গে।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট সংগ্রহ করেন ফাহিমা খাতুন। এছাড়া ১টি করে উইকেট সংগ্রহ করেন ফারিহা তৃঞ্চা, সুলতানা খাতুন, নাহিদা আক্তার এবং রাবেয়া খান
একই মাঠে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৪৫/৬ (আতাপাত্তুর ৩৮, গুনারত্নে ১১, হার্শিথা ৪৫, নিলাকশি ২৯*, হাসিনি ১, কাভিশা ০, আনুশকা ০, ওশাদি ৮*; ফারিহা ৪-০-৩৫-১, সুলতানা ৪-০-৩০-১, নাহিদা ৪-০-৩৫-১, রাবেয়া ৪-০-২৩-১, ফাহিমা ৪-০-২০-২)
বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৬/৪ (শামিমা ৫, রুবাইয়া ৯, সোবহানা ১৭, নিগার ৭৫*, রিতু ৩৩, মুর্শিদা ০*; উদেশিকা ৩-০-৭-১, কাভিন্দি ২-০-১৪-১, ওশাদি ৪-০-৩৯-১, ইনোকা ৩.৫-০-২৯-০, কাভিশা ৩-০-২১-০, আতাপাত্তু ৪-০-৩৩-০)
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী