’৯১-এর তুফানে ছেলে-মেয়েকে হারান, আর কাউকে হারাতে চান না মোহরম বিবি

দেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। এ ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায়। তার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন অন্যতম। মোহরম খাতুনের বয়স ৭০ বছর। তিনি এর আগে ১৯৬০, ১৯৯১ এবং ১৯৯৭ সালের ঘূর্ণিঝড় দেখেছেন। কিন্তু ১৯৯১ সালে ঘটা প্রলয়ংকরী সেই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ংকর স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি। ৩২ বছর পর এসেও সেই স্মৃতি বলতে গিয় ভয়ে কেঁপে ওঠেন তিনি। ওই দুর্যোগে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে হারান।

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ নিয়ে নতুন আতঙ্ক ভর করেছে তার মনে। তাই সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে এবার ছেলে-মেয়ে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনী নিয়ে আগেভাগে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন। তাদের সাথে গৃহপালিত পশুও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন। শুধু মোহরম বিবি নয়। লাঠিতে ভর দিয়ে আসা বদন আলী আশ্রয় কেন্দ্র আসতে আসতে ’৬০, ’৯১ এবং ’৯৭-এর তুফানের সময় তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন বাসিন্দারা।

শনিবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইশতিয়াক ইমন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এবং ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শনসহ মানুষকে সচেতন করেন।

দেখা যায়, উপকূলবাসী তাদের গৃহপালিত পশু এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ ব্যক্তিগত উদ্যোগে যাতায়তের সুবিধার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা ও আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের খাদ্য মজুদ করেছেন।

বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক ইমন

এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, উপকূলীয় বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। কেউ নিজ ঘরে থাকতে পারবে না। আপনারা নিরাপদে থকুন, আগে জীবন বাঁচান। জীবন বাঁচলে সম্পদের অভাব হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, আমাদের ৫৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় টহলে থাকবে৷ যেকোনো পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা মাঠে তৎপর থাকবে। আশা করি আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব।

দেশ বর্তমান/এআই