৮০০ টাকা দিলে স্বাধীনের সন্ধান পাওয়া যাবে, মরদেহ মিলল নদীতে

নিখোঁজের ৪ দিন পর রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বালু নদী থেকে শিশু শিক্ষার্থী গনি স্বাধীনের (৯) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। স্বাধীনের বাবার দাবি, টাকা চেয়ে ফোন দিয়েছিল এক ব্যক্তি। ফোন নাম্বার পুলিশকে দেয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় সেটি। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সূত্রে জানা যায়, সোমবার (০৪ ডিসেম্বর) মরদেহ উদ্ধার করে রাতে ময়নাতদন্তের জন্য এখানে আনা হয়। গত শুক্রবার বিকেলে পাশের এলাকায় একটি মেলায় যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো শিশুটি। নিখোঁজের পর একটি নাম্বার থেকে তার বাবাকে ফোন দিয়ে টাকাও দাবি করা হয়েছিলো বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে ঢাকা অঞ্চলের ডেমরা রাজাখালি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় খিলগাঁও কায়েতপাড়া বাজারের উত্তর পাশে বালু নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, মরদেহ আংশিক পঁচে ফুলে গেছে। এজন্য মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বাহ্যিকভাবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পেলে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার নাওরা গ্রামে মো. শাহিনের ছেলে স্বাধীন। নাওরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। নিহত স্বাধীনের বাবা মো. শাহিন জানান, শুক্রবার বিকেলে স্বাধীন বাসা থেকে বের হয়, পাশের এলাকার একটি মেলায় যাবে বলে। তবে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। কোথাও না পেয়ে ওইদিনই রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে জিডি করা হয়। এরপর দিন শনিবার সকালে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। ওই ব্যক্তি স্বাধীনকে কমলাপুর এলাকায় নামিয়ে রেখে এসেছে বলে। আর তাকে ৮০০ টাকা দিলে স্বাধীনের সন্ধান দেবে বলে জানায়। তখন স্বজনরা ওই ব্যক্তির কথায় রাজি হন। তবে শিশুটির বাবা গোপনে ওই নাম্বারটি থানা পুলিশকে দেয়। কিন্তু এরপর থেকেই ওই নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তবে শনিবার দুপুরে তারা নিজেরাই কমলাপুর এলাকায় গিয়ে স্বাধীনকে খোঁজাখুঁজি করেন। এতেও কোন হদিস মেলেনি। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের মাধ্যমে খবর পান, বালু নদী থেকে স্বাধীনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। শাহিন বলেন, তার সাথে এলাকার কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কারা তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে তা তার ধারণার বাইরে।