যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা পরিচালিত জরিপের ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন তুলেছেন, শেখ হাসিনা কেন ক্ষমতা ছাড়বেন। তিনি বলেছেন, এ দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ যাকে ভালোবাসে, যাকে ভোট দিতে চায়, তিনি কেন ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবেন? শেখ হাসিনা কেন বিদায় নেবেন?
গতকাল শুক্রবার বিকালে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ‘শান্তি সমাবেশ’ এ কথা বলেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে এক জনমত জরিপ চালিয়েছে। এই জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৮ আগস্ট তাদের ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ মনে করেন, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে বেশ ভালো করছেন। ২০১৮ সালের তুলনায় চলতি বছর ৪ শতাংশ বেশি অংশগ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এমন মত দিয়েছেন।
চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল দেশের ৬৪টি জেলার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী পাঁচ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর ওই জরিপ পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিএনপির আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা শান্তি সমাবেশ, উন্নয়ন সমাবেশ করছি। আজকে বিএনপি নেতাদের গলা শুকিয়ে গেছে। গলায় আর জোর নাই। তাদের সমাবেশে আস্তে আস্তে লোক কমতেছে। আন্দোলনের মরা গাঙ্গে জোয়ার আটকে গেছে। মরা গাঙ্গে ঢেউ নেই। বিএনপির বাজার ভাঙা হাটের মত, ভাঙা হাট আর জমে না।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগে দলটির নেতাদের বক্তব্য তুলে ধরে কটাক্ষও করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ডিসেম্বরে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় বসবেন, দেশ চালাবেন, তারেক জিয়া দেশে আসবে, কোথায় গেল লাফালাফি? গোলাপবাগের গরুর হাটে গিয়ে লাফালাফি শেষ। তারপর পদযাত্রা থেকে শুরু করে বিএনপি এসব করে আন্দোলন জমাতে পারেনি।
বিএনপির কালো পতাকা মিছিল নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বিএনপি কালো পতাকা মিছিল করছে কেন? তাদের কোনো নেতা মারা গেছে? আন্দোলনে বারোটা বেজে গেছে। এখন নেতারা নিজেদের অজান্তে শোকের মিছিল। আন্দোলনের পতাকা হলো লাল-সবুজ। আজকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীকের প্রতি তাদের কোনো দরদ নেই।
আওয়ামী লীগের এই সমাবেশের দিন সরকার পতনের ‘এক দফা দাবিতে’ বিএনপি রাজধানীতে কালোপতাকা মিছিল করেছে দুটি এলাকায়। গত কয়েক মাস ধরেই বিএনপির কর্মসূচির দিন আওয়ামী লীগও আলাদা কর্মসূচি দিচ্ছে।
বিএনপির মিছিলে মানুষের সংখ্যা কম দাবি করে তিনি বলেন, যে মিছিলে জনগণ নেই, সেই মিছিল গণমিছিল হয় কী করে? আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনের দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের জমায়েতের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন কাদের।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মিছিল সারা শহরে মিছিল আর মিছিল। দেখবেন দুই তারিখ, দেখবেন ১ তারিখে। আমরা বিজয়ের পতাকাতে মিছিল দেখাব, শোকের কালো পতাকা নয়।
‘বিএনপির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয় কেন?’
সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিলে দায়ীদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা প্রসঙ্গও উঠে আসে কাদেরের বক্তব্যে। তিনি এই নীতির আওতায় বিএনপির ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন।
আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বিএনপি বসে বসে স্বপ্ন দেখে, নিষেধাজ্ঞার আতঙ্ক ছড়ায়, ভিসা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। বিএনপি রাস্তা বন্ধ করেছে, ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান করেছে। এর জন্য তো ভিসানীতির আওতায় নিষেধাজ্ঞা আসা দরকার। বিএনপির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় না কেন? সে প্রশ্ন আমরা করতে চাই।
বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডায় বসবাসের বিষয়টি নিয়ে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “খুনিরা বড় বড় দেশে প্রকাশে ঘুরে বেড়ায়, আমাদের দেশে জাতির পিতার হত্যার আসামিদের ফিরিয়ে দিচ্ছে না। এটা কোন দেশের গণতন্ত্র?”
‘রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ কমল কেন?’
মিয়ানমারের বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় জাতিসংঘসহ পশ্চিমাদের এক হাত নেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ আগে ১২ ডলার দিত, এখন ৮ ডলার দেয়। কীভাবে চলবে? কেউ সাহায্য করে না, শুধু মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বলে, রোহিঙ্গাদের জন্য মায়া কান্না কাটে। তারা তাদের দেশের অন্য দেশের মাইগ্রেট করে জায়গা দিতে পারে না? আমাদের দেশের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত, আজকে সেখানে জীবন বিপন্ন। কক্সবাজারে জীবন আজ বিপন্ন।
আমাদের ট্যুরিজম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মুখে সুন্দর সুন্দর বাণী উচ্চারণ করে, আমাদের নেত্রীর প্রশংসা করে কিন্তু বাস্তবে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।