৬ কর্মকর্তাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সহকর্মীরা

নরসিংদী দুর্ঘটনা

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় ৬ কর্মকর্তাসহ ৭জন নিহত ও  ৪জন কর্মকর্তা আহত হয়েছে।  শুক্রবার (২৫ আগস্ট )রাত আড়াইটার দিকে নরসিংদীর ইটখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রাতে তারা সিলেটের মাজার জিয়ারত ও দর্ষণীয় স্থান ঘোরার জন্য রওনা দেওয়ার পর এ মর্মান্তিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

এ ঘটনায় সহকর্মীদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন কারখানাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।  সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার নতুন জোনের দক্ষিণ পাশের দেয়াল ঘেঁষা বাইপাইল নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত এসবি নিটিং লিমিটেড কারখানা ও এর আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এস.বি নিটিং লিমিটেড কারখানার উৎপাদন কর্মকর্তা (পিএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তারা কারখানা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।  পরবর্তীতে রাত আড়াইটার দিকে নরসিংদীর ইটখোলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এ ঘটনায় আরও চার কর্মকর্তা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।  তারা হলেন কারখানাটির মার্চেন্ডাইজার সাকি, পারভেজ, দোয়েল, মিঠুন।

নিহত কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন মার্চেন্ডাইজার।  তারা হলেন- টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মীর কুমুল্লী গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে মীর নাজমুল হক ওরফে সবুজ (৩০), গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার লতিফপুর গ্রামের আইয়ুব খানের ছেলে আল আমীন (২৭), ঝালকাঠির রাজাপুর থানার পারগোপালপুর গ্রামের আবদুল গনি হাওলাদারের ছেলে আল আমীন হাওলাদার (২৯), জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার ধারাবর্ষা গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে রাজু আহাম্মেদ (৩৬) ও বরিশালের মুলাদি থানার মুলাদি গ্রামের মো. মজিবর সিকদারের ছেলে রায়হান সিকদার ওরফে আরিয়ান (২৪)। এছাড়া মাদারীপুরের কালকিনি থানার উত্তর কৃষ্ণনগর গ্রামের তোফায়েল হাওলাদারের ছেলে আব্দুল আউয়াল (৩৭) ছিলেন কারখানাটির ফেব্রিক অফিসার।

নিহত আরেকজন কুষ্টিয়ার সদর থানার খাজানগর গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে বাবুল মোল্লা (৪০)।  তিনি সিলেট ভ্রমণে এই কর্মকর্তাদের মেহমান ছিলেন।

শুক্রবার সকালে তাদের মরদেহ সরাসরি কারখানায় নিয়ে আসা হয় এবং কারখানার সামনেই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।  একনজর দেখার পাশাপাশি জানাজায় শরিক হওয়ার জন্যও অনেকে ভিড় হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির আশপাশে এসময়।

কারখানাটির এইচ আর ম্যানেজার (প্রশাসন) জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের মৃত্যুতে আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি।  তাদের হারিয়ে প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।

এস. বি নিটিং লিমিটেড (জিএম অপারেশন) জহরুল ইসলাম বলেন, নিহত সবারই গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স করা আছে।  শনিবার (২৬ আগস্ট) কারখানা খোলার পর মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।