৬ উইকেটে রংপুরের কাছে হারল সিলেট

বিপিএল সিলেট পর্ব শুরু

ঘরের মাঠে হার দিয়ে বিপিএলের সিলেট পর্ব শুরু করলো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল সিলেট স্ট্রাইকার্স।  বিপিএলের চলতি আসরে সবচেয়ে সফল দলটি নিজেদের অষ্টম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরেছে ৬ উইকেটে।  সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম বিপিএলের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে দর্শকদের গর্জনে। তবে স্বাগতিক দর্শকদের সেই গর্জন সময়ের সাথে সাথে মিইয়ে যায়।

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেট স্ট্রাইকার্স ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচটি শুরু হয় বেলা ২টায়।  টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঘরের মাঠে শুরুতেই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখলো সিলেট স্ট্রাইকার্স।  ফগান ক্রিকেটার আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের শুরুর স্পেলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সিলেট। যে দলটি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল, সেই দলটিকেই নাকানি-চুবানি খাইয়ে মাত্র ৯৩ রানে আটকে দেয় রংপুরের বোলাররা, যা বিপিএলের চলতি আসরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটাও ভাল হয় রংপুরের।  ২৭ রানে নাঈম শেখকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রেজাউর রহমান।   তবে ৯ম ওভারে টানা দুই বলে মাহেদী হাসান ও শোয়েব মালিককে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।  তবে লক্ষ্য খুব একটা বেশি না হওয়ায় কুব একটা কষ্ট করতে হয়নি রংপুরকে। ৬৬ রানে আজমতউল্লাহ আউট হলেও ২৬ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে রংপুর।  ৪১ রানে রনি তালুকদার এবং ১৮ রানে অপরাজিথ ছিলেন মোহাম্মাদ নাওয়াজ।

এর আগে ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে রংপুর রাইডার্স।  ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টম মুরসের উইকেট হারায় সিলেট।  পরের ওভারে মাহেদী হাসানের বলে দারুণ এক ছয় হাঁকিয়ে আক্রমণাত্নক ক্রিকেট খেলার আভাস দেয় নাজমুল হোসেন শান্ত।  তবে পরের বল আবারো বড় শট খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন শোয়েব মালিকের হাতে।  বাউন্ডারি রোপ ঘেঁষে দারুণ এক ক্যাচ নেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

দুই নতুন ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয় ও জাকির হাসানের উপর দলকে এগিয়ে নেয়ার দ্বায়িত্ব বর্তায়।  তবে চতুর্থ ওভারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তৌহিদ হৃদয়। রিভিউ নিলেও বাঁচতে পারেন নি।  তার বিদায়ের পর ক্রিজে এসে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম।  টানা দুই ম্যাচে গোল্ডেন ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।  হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।

পঞ্চম ওভারে জাকির হাসানকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মাহেদী।  স্কোরবোর্ডে ১২ রান তুলতেই পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারায় সিলেট স্ট্রাইকার্স।  টপ অর্ডারের এমন বেহাল দশায় ধুঁকতে থাকে টেবিল টপাররা।  পাওয়ার প্লে’র শেষে তাদের সংগ্রহ দাড়ায় ৫ উইকেটে ১৬ রান।

দলের দুই বিদেশী ক্রিকেটারও দলের বিপদের দিনে হাল ধরতে পারেন নি।  ১৭ রানে রউফের বলে থিসারা পেরেরা এবং ১৮ রানে ইমাদ ওয়াসিমকে সাগঘরে পাঠান হাসান মাহমুদ।  ১৮ রানে ৭ উ্টিকেটের পতনে বিপিএলের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানের স্কোরের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিলো সিলেট।

তবে অষ্টম উইকেটে তানজিম সাকিব এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ঢাল হয়ে দাড়ান রংপুরের বোলারদের সামনে।  দুজনে ধীরে ধীরে দলকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন।  ৪৫ বল থেকে ৪৮ রানের জুটি গড়ে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা থেকে বাঁচায় দলকে।  দলীয় ৬৬ রানে মাশরাফিকে ফিরিয়ে তাদের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।

মাশরাফি বিদায় নিলেও আরেক প্রান্ত থেকে রান তুলতে থাকেন তানজিম সাকিব।  বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্যের ব্যাটে ভর করে এগোতে থাকে স্বাগতিকরা।  দলের রান যখন ৮৫ তখন হাসান মাহমুদের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাকিব।  তবে তার আগে খেলেন ৩৬ বলে ৪১ রানের এক সময়োপযোগী ইনিংস।  ৫টি চার ও ২টি ছয়ে সাজান ইনিংসটি।

নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ৯২ রান তুলতে পারে সিলেট স্ট্রাইকার্স।  তানজিম সাকিব এবং মাশরাফি ছাড়া কোন ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেনি।  আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী শুরুর পর আলো কেড়ে নেন রংপুরের আরেক

পেসার হাসান মাহমুদ।  ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার তিনি।  ওমরজাইও নেন ৩টি উইকেট।

তবে হারলেও পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরেই থাকছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।  আর এ ম্যাচে জয় পাওয়ায় প্লে অফের লড়াইয়ে আরো একটু সুবিধাজনক স্থানে চলে গেলো রংপুর রাইডার্স।  ৭ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট।