৬০ বিঘার বেশি জমির মালিক হওয়া যাবে না

কোনো ব্যক্তির একার নামে ৬০ বিঘার বেশি কৃষি জমি থাকা যাবেনা, এমন বিধান রেখে ‘ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।  এর আগে ১৯ মে এ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

সচিব বলেন, নতুন এ আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি একক নামে ৬০ বিঘার (১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ) বেশি কৃষি জমি রাখতে পারবেন না।  তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন সমবায় সমিতি; চা, কফি, রাবার ও ফলের বাগানমালিক; শিল্প কারখানার কাঁচামাল উৎপাদন হয় এমন ভূমির মালিক; রপ্তানিমুখী শিল্প ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত কর্মকাণ্ডের ভূমির মালিক; ওয়াকফ, ধর্মীয় ট্রাষ্ট্রের বেলায় এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

মাহবুব হোসেন বলেন, আগের আইনে ভূমি ব্যবস্থাপনার কোনো আইন যদি কেউ ভঙ্গ করেন, তখন দুই হাজার টাকা জরিমানা ছিল।  আজকে যে ড্রাফ উপস্থাপন করা হয়েছে সেখানে ভূমিসংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করলে এক লাখ টাকা অথবা এক মাস কারদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হবে।

৬০ বিঘার চেয়ে যারা অনেক বেশি সম্পত্তির মালিক তাদের ক্ষেত্রে কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, যদি এরকম কেউ থাকে এবং যদি কেউ সে আইনের আওতায় মামলা করেন তাহলে নতুন আইনে যে শাস্তির বিধান আছে তা প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, আইনের যে ধারাটা সংযোজন করা হয়েছে সেটা হলো এই যে, ৬০ বিঘার অধিক নতুন কোনো জমির মালিকানা নিতে পারবেন না।  এখানে বলা হয় নাই ৬০ বিঘার বেশি থাকলে আপনাকে ছেড়ে দেবে।  যদি আপনার ৬০ বিঘা কৃষি জমি থাকে তাহলে নতুন করে আর মালিকানা নিতে পারবেন না।  সেটা আপনি উত্তরাধিকার সূত্রে হোক বা নিজের কেনা হোক।  ৬০ বিঘার বেশি আপনি আর মালিকানা নিতে পারবেন না।

এছাড়া এ আইনে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু ও তথ্যভান্ডার তৈরির বিধান রাখা হয়েছে।