মুক্তিযুদ্ধের সূঁতিকাগার চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীতে প্রথমবারের মতো বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ। এর আগে এতো বছর ধরে শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানো হতো। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ ২৫ বছর দাবির প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতে এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে আগামী মঙ্গলবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবে চট্টগ্রামবাসী। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ। নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে সম্মান প্রদর্শন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
শীঘ্রই মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরসহ স্থায়ী স্মৃতিসৌধের নকশা প্রণয়ন করবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়
আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান
জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম
আজ রবিবার বিকালে দৈনিক দেশ বর্তমানকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ বলেন, আমরা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি চট্টগ্রামে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার। দাবি জানানো অনেক মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৩ বছর পর অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হওয়ায় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা খুশি। এ দাবি করার পর যারা দেখে যেতে পারেনি তাদের আত্মা অন্তত শান্তি পাবে। চট্টগ্রামের সব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হওয়ায় সন্তুষ্ট। এটা নির্মাণে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শীঘ্রই স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হবে বলে আশা করেন মুক্তিযুদ্ধের এই কমান্ডার।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অনন্য অবদান অবিস্মরণীয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ দিনের দাবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের। তাদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে এখানে অস্থায়ীভাবে হলেও একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছি। জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে কম সময়ের মধ্যে এটির কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগামী ২৬ মার্চ সর্বসাধারন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাসহ অনেক কিছু চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানে নৌ-কমান্ডরা কাজ করেছেন। ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদান অন্যতম। শীঘ্রই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রানালয় সমুদ্রের পাশে মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘর ও স্থায়ী স্মৃতিসৌধের নকশা প্রণয়ন করবে এবং প্রকল্প পাশ হওয়ার পর ৩-৫ বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন হতে পারে বলেও আশা করেন তিনি।
গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ছয় দফা আন্দোলনের সূচনা চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। চট্টগ্রাম বেতার থেকে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতার স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচার করা হয়। অপারেশন জ্যাকপট চট্টগ্রাম বন্দরে হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের সময় সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী উত্তর কাট্টলীতে ৩০ একর জায়গায় নতুন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে এটির নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।