বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “এক কুলাঙ্গার আছে, ২০০১ সালে তার হাওয়া ভবন ছিল। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারতেন না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিত। সে অবৈধ যত কাজ আছে সবই করেছে। মানি লন্ডারিং থেকে শুরু করে অস্ত্র চোরাকারবারি-দুর্নীতি সবই করেছে।”
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নাটোর, পাবনা ও খাগড়াছড়ি জেলায় নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “বিদেশ থেকে এসে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। এজন্য তার সাজাও হয়েছে। এখন আবার বিদেশে বসে ভোটের কথা বলে গণতন্ত্রের কথা বলে। সে তো রাজনীতি করবে না। আবার বিদেশে বসে থেকে হুকুম দিয়ে, উস্কানি দিয়ে নেতাদের দিয়ে মানুষ হত্যা করাচ্ছে। নির্বাচন বানচাল কবার পাঁয়তারা করছে।”
বিএনপি মানুষকে মানুষ মনে করলে পুড়িয়ে মারত না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা মানুষকে মানুষ মনে করতে পারে না। আপনারা দেখছেন রেলে আগুন দিয়ে কিভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। মা তার সন্তানকে বাঁচাতে বুকে ধরে রেখেছেন, বাসের ভেতরে হেলপার ঘুমিয়ে আছে, এর মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ট্রাকে আগুন দিচ্ছে। ছেলেকে ট্রাকে বসিয়ে বাবা পানি আনতে গিয়ে এসে দেখেন ছেলে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তারা ২০১৩-১৪ এবং ১৮ সালে একইভাবে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৫৮২টি স্কুল, ৭০টি সরকারি অফিস, ৬টি ভূমি অফিস, ৩,২৫২টি গাড়ি, ২৯টি রেল, ৯টি লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে আসবে কীভাবে? ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফলাফলটা কি ছিল? বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট পেয়েছিল মাত্র ৩০টি আসন। আর আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছিল ২৩৩ আসন। তারা এখন বড় বড় কথা বলে! ভোটের কথা বলে! তারা ভোটের কী বোঝে?”
শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘনকারী, সেনা রুলস লঙ্ঘনকারী, ক্ষমতা দখলকারী এক জেনারেলের পকেট থেকে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল। এক জেনারেলে পকেট থেকে। ভোট চুরি করার কাজ করেছিল। ক্ষমতায় বসে থেকেই একদিকে সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান আবার ইলেকশনও করেছে। তাদের সব কিছুই অবৈধ।”
সরকারের উন্নয়নমূলক চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আবারও নৌকার মার্কায় ভোট চান। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে আপনাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জনগণ ভোট দেবে। ভোটের মালিক জনগণ। এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা এটাকে উন্মুক্ত (স্বাধীন) করেছি। প্রত্যেক জনগণের কাছে যাবেন। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই নির্বাচিত হবে। কেউ কারও অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেন না। এখানে মারামারি সংঘাত কোনো কিছুই আমি দেখতে চাই না। আমার দলের কেউ করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ সময় পাবনাবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল এবং পাবনা-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। তারা পাবনার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং আরও কয়েকটি উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে রয়েছে- পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া-কাজিরহাট ওয়াই সিস্টেমে সেতু, ঢাকা-পাবনা ট্রেন, পাবনা মানসিক হাসপাতাল সংস্কার ও ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দেন।