এক হাজার ১ টাকায় তিনতলা বাড়ি পেলেন কাদের সিদ্দিকী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে নিজ দখলে থাকা বাড়িটি এবার বরাদ্দ পেয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।  ‘একটি পরিত্যক্ত বাড়ি’ দেখিয়ে সম্প্রতি ১ হাজার ১ টাকা মূল্য ধার্য করে সরকার ৫ কাঠা জমিসহ তিনতলা ওই বাড়ির সাফকবলা দলিল করে দিয়েছে তার নামে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব নাগরিক তাদের বাড়ি বা সম্পত্তি ফেলে চলে গেছেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সেসব সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়।  পরে সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মাধ্যমে এসব সম্পত্তি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কাদের সিদ্দিকী দাবি করেছেন স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে এই বাড়িটি দিয়েছেন।  কিন্তু, বাড়িটি তার দখলে থাকলেও কোনো কাগজপত্র ছিল না।  একাধিকবার বাড়িটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন কাদের সিদ্দিকী। কিন্তু পাননি।

এবার অবশেষে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।  সরকারি সিদ্ধান্তে নামমাত্র মূল্যে তাকে বাড়িটির দলিল করে দেওয়া হয়েছে।  পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড সম্প্রতি বাড়িটি তার নামে বরাদ্দ দিয়ে চিঠি দিয়েছে।  ১ হাজার ১ টাকা মূল্য ধার্য করে সরকার পাঁচ কাঠা জমিসহ তিনতলা ওই বাড়ির সাফকবলা দলিল করে দেয়।  গত ৫ জুলাই কাদের সিদ্দিকীর নামে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড থেকে বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে।  চিঠিতে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।

শর্তগুলো হচ্ছে, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক ধার্যকৃত হারে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।  তবে শহীদ পরিবার বা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রপ্রাপ্ত হলে ধার্যকৃত ভাড়ার পরিমাণ অর্ধেক হবে।  ধার্যকৃত ভাড়া গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক ট্রেজারি চালান পাস করে নির্ধারিত কোড নম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে হবে।  কনজারভেন্সি, পানির বিল, পৌরকর, তিতাস গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি যথাযথভাবে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিকেই পরিশোধ করতে হবে।

সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া বাড়িটির কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা মেরামত করা যাবে না।  বাড়ির কোনো কিছু ক্ষতি বা বিনষ্ট হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ধার্যকৃত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।  বাড়িটি কোনো অবস্থাতেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।  তা করলে বরাদ্দপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।  বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তি নিজে না থেকে অথবা আংশিকভাবে থেকে যদি অন্য কাউকে ভাড়া দিয়ে থাকেন, তবে তার বরাদ্দপত্র তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে সাত দিনের মধ্যে তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হবে।

সরকার যদি জনস্বার্থে নিজ দরকার বলে মনে করে বা এটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে অবমুক্ত করে দেয়, তবে যথারীতি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়িটি খালি করে দিতে হবে।  এক্ষেত্রে সরকার বরাদ্দ দেওয়া বাড়িটির পরিবর্তে অন্য কোনো বাড়ি বরাদ্দ দিতে বাধ্য থাকবে না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কাদের সিদ্দিকীকে এই বাড়ি উপহার দেওয়া অনেকেই নির্বাচনী উপহার হিসেবে মনে করছেন।

এদিকে, বুধবার (১৬ আগস্ট) টাঙ্গাইলে এক জনসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে বলে দিতে চাই আমার বোনকে, ভালো হয়ে যান।  মানুষ এখন আপনাদেরকে চায় না, বিএনপিকেও চায় না। ”