হরিরামপুরে আংশিক ধসে যাওয়া সেই বিদ্যালয়ের ভবন নিলামে বিক্রি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মায় আংশিক ধসে যাওয়ায় শতবর্ষী ৪৬ নং চর-মুকুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উন্মুক্ত নিলামের বিক্রি করেছেন প্রশাসন।  হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ৫৯ হাজার ৪৮ টাকায় উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি ক্রয় করেন স্থানীয় আবিধারা এলাকার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২১ আগস্ট) রাতে হঠাৎ করে ১৯১৫ সালে স্থাপিত শতবর্ষীয় বিদ্যালয়ের ভবনটির আংশিক পদ্মায় ধসে যায়।  এছাড়াও ওই রাতে প্রায় ১৫টি বসতভাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের ভবন ও মানুষের বসতভিটা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করে।  জিও ব্যাগ ফেলার পর ভাঙ্গনরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

তবে বিদ্যালয়ের ভবনটি ধসে যাওয়ায় এবং ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন আলোচনা করে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভবনটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।  উন্মুক্ত নিলামের সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,হরিরামপুর থানার ওসি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল জানান,কয়েক বছর আগে থেকেই বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ায় ঝুকিতে ছিল।  তখন উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন জিও ব্যাগ ফেলায় বিদ্যায়লটি রক্ষা করা গেছে।  কিন্তু সেদিন রাতে হঠাৎ করে পদ্মার ভাঙ্গনে বিদ্যালয়ের ভবনের আংশিক পদ্মায় ধসে যায়।  কয়েক দিন শির্ক্ষাথীদের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়।  তবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কথার চিন্তা করে পাশের ধুলশুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আপাতত তাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের কারনে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২০জন শিক্ষার্থী আছে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.মাইনুল ইসলাম জানান,উপজেলা নির্বাহী ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেই বিদ্যালয়ের ভবনটি নিলাম দেওয়া হয়েছে।  কারন পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে বিদ্যালয়ের ভবন।  নির্মানের সব টাকা পানিতে চলে যাবে, নিলামের মাধ্যমে যে কয়টাকা আসবে, তা দিয়ে নতুন বিদ্যালয়ের জন্য বা বেঞ্চ কিনতে কিছৃটা হলেও কাজে লাগবে। এসব কথা বিবেচনা করে ধসে যাওয়ায় আংশিক ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে ।

মানিকগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাঈন উদ্দিন জানান,ভাঙ্গনের খবর পাওয়ার পর ভাঙ্গনরোধে তাৎক্ষনিক জিও ব্যাগ এবং ৫টন ওজনের জিও টিউব ফেলা হয়েছে।  এছাড়াও আবিধারা এলাকার ভাঙ্গনরোধে কাজ চলমান আছে।  জিও ব্যাগ ফেলার পর ভাঙ্গন এলাকায় ভাঙ্গনরোধ হয়েছে বলেও তিনি জানান।