হরতাল-অবরোধে নমনীয় থাকবে বিএনপি!

# নিরাপত্তা ছক তৈরি করে প্রস্তুত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী # পরিকল্পনা অনুসারে এগোচ্ছি -ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি # পুলিশ আক্রান্ত হলে ছত্রভঙ্গ করে দেবো -সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিআইজি, ঢাকা

নির্বাচনের তফসিল বাতিল, সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকার গঠন এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে আরও দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে বিএনপি এবার হার্ডলইন ও সহিংসতা ছেড়ে নমনীয় থাকবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে সড়ক, রেল, নৌপথসহ সার্বিক অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। তৈরি করেছে নিরাপত্তা ছক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নাশকতার তথ্য জনসাধারণের কাছে থাকলে ৯৯৯-এ পুলিশকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ সময় দেশব্যাপী র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নের তিন শতাধিক টহল টিম নিয়োজিত থাকবে। রাজধানীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ৫০টি পয়েন্টকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া ফেসবুক ইউটিউবে গুজব ঠেকাতে সাইবার পেট্রলিং শুরু করেছে পুলিশের বিভিন্ন সাইবার উইনিট।

জানা গেছে, আগামী বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালিত হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপির ৩৮৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে ১৫টি। বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সপ্তম দফায় ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি রোববার সকাল ৬টায় শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ছিল।

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল বলেন, এখন পর্যন্ত আন্দোলন সমন্বয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়কারী আগেই ঠিক করা আছে। আর নেতাদের যতদূর সম্ভব গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হলে তারপর কে দায়িত্ব পালন করবেন তা আগে থেকেই ঠিক করা আছে। আর বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক নেতা আছেন। পুলিশ কত জনকে গ্রেপ্তার করবে?

বিএনপির এক নেতা বলেন, আমরা মনে করি আমাদের হরতাল ও অবরোধ সফল হয়েছে। যতই বাধা ও পুলিশের তৎপরতা থাকুক না কেন আমাদের নেতা-কর্মীরা আমাদের কৌশল মতো মাঠে আছেন। তারা মিছিল পিকেটিং করছেন। তবে আমরা সব শক্তি একবারে ব্যবহার করছি না। কারণ আমরা মনে করি এই চূড়ান্ত কঠোর আন্দোলন আমাদের হয়তোবা কয়েক মাস ধরে চালিয়ে যেতে হতে পারে। তাই আমরা শক্তি ব্যবহারেও কৌশল অবলম্বন করছি। বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সরকার যে এরকম দমন পীড়ন চালাতে পারে সেই আশঙ্কা আমাদের আগেই ছিলো। সেই কারণেই আমাদের ওই পরিস্থিতিতে কীভাবে দল ও আন্দোলন চলবে তার পরিকল্পনা করা ছিলো। আমরা এখন সেভাবেই এগোচ্ছি। তার কথা, সরকার যা করে করুক আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। একটার পর একটা কর্মসূচি আসবে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অবরোধকারী রাস্তাঘাটে যানবাহন চালাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। কেউ যদি বাধা সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটি সড়ক আমাদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে। পুলিশকে আক্রমণ করে কোনো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে তাহলে তাদের টিয়ারশেল দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করব।