হঠাৎ মাহতাব-নাছিরের প্রশংসায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের চাপা বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। কিন্তু গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরীতে একটি সভায় মাহতাব-নাছিরকে হঠাৎ প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

নগরীর লালখান বাজারে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম-১০ নির্বাচনী আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ১০টি ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সভার মঞ্চে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বাম পাশে বসেছিলেন মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী আর ডান পাশে বসেছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। দুই পাশে বসা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এই দুই কাণ্ডারির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘মাহতাব ও নাছিরের নেতৃত্বে নগর আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। নগর আওয়ামী লীগের যে সাংগঠনিক শক্তি তা কার্যকর করলে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবে।’

২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত এম এ আজিজের স্মরণসভায় মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘বহিরাগতরা চট্টগ্রাম মহানগরে এসে মাথা ঘামাবেন না। সাবধান হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। আমি একজন বীরের ফ্যামিলির সন্তান। আমি বেঁচে থাকতে জহুর আহমদ চৌধুরীর সন্তান হিসেবে বলছি কোন বহিরাগত চট্টগ্রাম মহানগরে মাথা ঘামাবেন না।’

শুধু মাহতাব নয়, আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গেও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের নানা কারণে মতবিরোধ চলে আসছে।
মাহতাব-নাছিরের সঙ্গে বৈরি সম্পর্কের মাঝে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হঠাৎ তাদের নেতৃত্বের প্রশংসা করায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বাচ্চুর জন্য ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট করার পরামর্শ মোশাররফের

চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর জন্য ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যদি মনে করি, সে (বাচ্চু) তো হয়ে যাবে। তাহলে হবে না। সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শুধু কেন্দ্রে জটলা পাকালে হবে না। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতে হবে।’

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘মেয়র রেজাউল করিমের ভোট, নোমানের ভোট দেখেছি। মেয়রের ভোটের দিন ৫০ কেন্দ্রে গেছি। হাজার হাজার ছেলে কিন্তু ভোটারদের আনছে না। উৎসব করছে, ভোটের আগেই। যদি ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট করতে পারেন, সেটা অনেক ইতিবাচক হবে। আশা করি সবাই একজোট হয়ে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য কাজ করবে।’

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। মহিউদ্দিন বাচ্চু কে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। নৌকা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই নৌকা নিয়ে পথে নেমেছি।’

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বিগত দিনে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে যেভাবে ভোটার উপস্থিত করার দরকার ছিল, তা পারিনি। এটা ভোটারদের ব্যর্থতা নয়, এটা আমাদের ব্যর্থতা। কেন্দ্র কমিটি করা হয়েছিল নোমান আল মাহমুদের ভোটের সময়। যতজন কমিটিতে ছিল ততজন কেন্দ্রে ছিল না। দায়িত্ব নিয়ে এটা প্রতারণার শামিল।’

তিনি বলেন, ‘বিগত দিনের ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবে, এটা বাস্তবতা। কিন্তু ভোটার উপস্থিতি যদি কম হয় তাহলে সেটার সমালোচনা হবে।’

নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘প্রান্তিক স্তরে যেসব মানুষ সরকারের উপকারভোগী রয়েছেন তাদের দলে টানতে পারলে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত এবং তারাই আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস। তাদের প্রতি শতভাগ ভরসা ও বিশ্বাস আওয়ামী লীগের আছে।’

সভায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘এই আসনের তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. আফছারুল আমীন একজন জননন্দিত নেতা ছিলেন। জনগণের জন্য দায়বদ্ধতা থেকে এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনে নিবেদিত ছিলেন। আমি আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে প্রয়াত জননেতা ডা. আফছারুল আমীনের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে সচেষ্ট থাকবো।’

চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নঈম উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলার সহ সভাপতি এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, নগর আওয়ামী লীগের বদিউল আলম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দেবাশীষ পালিত, জসীম উদ্দীন শাহ ও নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান প্রমুখ।

এমএইচএফ