হঠাৎ বেড়েছে বিএনপির কূটনৈতিক যোগাযোগ
# মির্জা ফখরুলের সঙ্গে পিটার ডি হাসের বৈঠক # সুইস রাষ্ট্রদূতের বাসায় তিন নেতার মধ্যাহ্নভোজ # সংবাদ সম্মেলন আজ
হঠাৎই কূটনৈতিকপাড়ায় যোগাযোগ দেখা গেল বিএনপির। একদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে গতকাল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। অন্যদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেছেন বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে এই যোগাযোগ রাজনীতিতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিলেও বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছুই বলা হয়নি।
বিশেষ করে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকটি দলের দায়িত্বশীল নেতারাও জানেন না বলে বলছেন। এদিকে, এসব অজানা বিষয় নিয়ে কৌতুহল থাকার মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দলটি। আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে, কূটনৈতিক এইসব যোগাযোগ নাকি শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর গ্রেপ্তার ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা; কোন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন মির্জা ফখরুল, তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে আমেরিকান ক্লাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বৈঠক হয়েছে। দুপুর পৌনে ১টা থেকে সোয়া দুইটা পর্যন্ত চলে বৈঠকটি। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরো অংশ নেন দূতাবাসের ডেপুটি কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল এন্ড ইকনমিক) অর্টরু হাইনেস।
সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বিএনপির অন্য কোনও পর্যায়ের নেতা সেখাানে উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে, হঠাৎ এই বৈঠকের সূত্রপাত কিভাবে? কি এজেন্ডায় হল এই বৈঠক? তবে দলের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বলা হচ্ছে, এই বৈঠক প্রসঙ্গে তারা কিছ্ইু জানেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুগ্ম মহাসচিব পদধারী এক নেতা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখছেন। তাদের তৎপরতা এবং বিএনপির আন্দোলনের লক্ষ্য একসূত্রে মিলিত হয়েছে। দেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনও ধরনের যোগসাজশ কিংবা পরিকল্পনা আছে, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। বিএনপি মহাসচিব যে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করবেন, এটি দলীয় ফোরামের অজানা। কেউ কেউ হয়তো জানেন। কৌশলগত কারণে বলছেন না। তবে নিশ্চয়ই বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ মহল ওয়াকিবহাল আছেন। এক প্রশ্নের জবাবে ওই বিএনপি নেতা বলেন, বৈঠক নিয়ে নেতিবাচক কিছু ভাবা অথবা সংশয়ের কোন অবকাশ নেই।
বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তথ্য দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা যখন কিছু জানাতে পারেননি, সেক্ষেত্রে ওই বৈঠক নিয়ে কৌতুহল অজানা রয়ে গেল।
অপরদিকে, একই দিন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেছেন বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা। গতকাল রাষ্ট্রদূতের বারিধারাস্থ বাসভবনে শীর্ষ নেতাদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। শামা ওবায়েদের বরাত দিয়ে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। গতকাল দুপুরে এ তথ্য জানান দলের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।