ডলার সংকট কাটিয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিছু কিছু ব্যাংক আবার নতুন করে এলসি খুলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে এটি আরেকটি বড় অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত মাসে অর্থাৎ মার্চ মাসে ২০১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার প্রেরণ করেছে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। যা বাংলাদেশি টাকায় ২১ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
অর্থ বছরে (২০২২-২০২৩) হঠাৎ করে দেশে ডলার সংকট দেখা দেয়। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশেও এসে ধাক্কা দেয়। দেশের রাষ্ট্রায়াত্ব ও বেসরকারি প্রায় সবগুলো ব্যংকে দেখা দেয় ডলার সংকট। পর্যাপ্ত ডলারের অভাবে আমদানি পণ্যের এলসি খুলতেও ব্যাকগুলো ব্যর্থ হয়।
এমনিতেই দেশের বাজারে দ্রব্য-সামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে ব্যবসায়ীদের অজুহাতের কোন অভাব নাই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উসিলায় ডলারের এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা কয়েক দফায় পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই ও আগষ্ট মাসে দুই মিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স দেশে আসে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম এই দুইমাস প্রবাসীদের প্রেরিত ডলারের এই প্রবাহ থাকলেও পরে হঠাৎ করে এটি থমকে যায়। এরপরের টানা ৬ মাস রেমিট্যান্সের গতি আর বাড়েনি, দুই মিলিয়ন থেকে ছিটকে পড়ে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে আসে সুখবর। পুনরায় রেমিট্যান্সের প্রবাহ গতি ফিরে পায়। ডিঙ্গিয়ে যায় দুই মিলিয়নের সংখ্যাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই মাসে (মার্চ-২০২৩)প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে পাঠিয়েছে মোট ২০১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি ডলার ১০৭ টাকা করে হিসেব ধরলে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকারও বেশী। অর্থৎ প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৬৯৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র আরো জানায়, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে এবং প্রবাসীদের উৎসাগ যোগাতে ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। যারা বৈধভাবে পাঠিয়েছে, তাদেরকে নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। সরকারের গৃহিত এই পদক্ষেপ কাজে লেগেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা বলছেন,‘ প্রবাসীরা ঝামেলায় না গিয়ে সরকারে নির্দেশিত সহজ পথেই দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে এবং বাড়তি নগদ প্রণোদনা পেয়ে তারাও খুব খুশী’।