স্বপ্নের টানেল যুগে বাংলাদেশ- যোগাযোগ ব্যবস্থায় ‘স্মার্ট সূচনা’: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বহুল আলোচিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী একটি হেলিকপ্টার নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমিতে আসেন। এরপর সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে নগরীর পতেঙ্গা প্রান্তে বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর বুক চিরে বানানো এই সুড়ঙ্গপথ যোগাযোগ ব্যবস্থার ‘স্মার্ট সূচনা’।
প্রধানমন্ত্রী পতেঙ্গায় উদ্বোধনস্থলে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ্য নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। এসময় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন উপেভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর টানেলের উদ্বোধন করে মোনাজাতে অংশ নেন।
টানেল উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণের ফলে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে দৃশ্যমান হবে। এই টানেল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সংযুক্তি, চট্টগ্রাম শহরের যানজট হ্রাস, আনোয়ারা প্রান্তে বিদ্যামান ও গড়ে উঠা শিল্পাঞ্চল এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ চট্টগ্রাম বন্দর ও প্রস্তাবিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরে পণ্য পরিবহনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। টানেলটি চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় শূন্য দশমিক ১৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর নিচে প্রথম সড়ক টানেল। দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও অকুণ্ঠ সমর্থনের ফলেই আজকের এই উন্নয়নের নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।’
সকালে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর টানেল এলাকায় প্রবেশ করে। টানেল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারা টোল প্লাজায় যান। সেখানে টোল প্লাজা কমপ্লেক্স ও টানেলের স্মার্ট মনিটরিং কক্ষ পরিদর্শন করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৌনে ১২টায় পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে টোল প্লাজায় টোল দিয়ে টানেল হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে যাত্রা করেন। এরপর সেখানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে টোল নেন ঝুমুর আক্তার। প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রথম যাত্রী হিসেবে টানেলে প্রবেশ করেন শেখ হাসিনা। এরপর তাঁর গাড়িবহরে থাকা অন্য গাড়িগুলো টোল পরিশোধ করে। ঝুমুর আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, টানেলে প্রথম যাত্রী প্রধানমন্ত্রী টোল দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে টোল নিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে যান চলাচলের জন্য টানেলটি খুলে দেওয়া হবে।