কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে নিরীহ লোকজনের জমা দেওয়া টাকা আত্মসাতের জেরে আদালতে রুজুকৃত প্রতারণা মামলার আসামি খালেদ মোর্শেদ হিরু নামের এক ব্যক্তিকে স্কুলের নতুন এডহক কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত করতে পায়তারা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারী) খুটাখালী কিশলয় আর্দশ শিক্ষা নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম স্কুলের প্রস্তাবিত এডহক কমিটির সভাপতি পদে বিতর্কিত ওই ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
গোপনে তালিকাটি শিক্ষাবোর্ডে জমা দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারী) বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রকাশ হয়ে যায়। মামলার আসামি ওই ব্যক্তিকে এডহক কমিটির সভাপতি পদে বসানোর চেষ্টার ঘটনায় স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষাবোর্ডে অনুমোদনের জন্য পাঠানো আবেদনে জানা গেছে, খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়ন দিতে তিনজনের নামের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। সেখানে এক নম্বরে মোহাম্মদ খালেদ মোর্শেদ হিরু, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ। দুই নম্বরে আলী আহমদ এবং ৩ নম্বরে মোহাম্মদ আয়াজ নামের দুইজনকে রাখা হয়েছে। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কুলের অভিভাবক মহলের অভিযোগ, নতুন এডহক কমিটির সভাপতি পদে খালেদ মোর্শেদ হিরু নামের ওই ব্যক্তির নাম এক নম্বরে রাখা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, খালেদ মোর্শেদ হিরুসহ ২২ জনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট খুটাখালীতে অন্তরঙ্গ উন্নয়ন ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি সমিতি খুলে স্থানীয় বিভিন্ন পেশার নারী পুরুষের কাছ থেকে টাকা জামানত নিয়ে আত্মসাত করেছেন।
এ ধরণের জমা দেওয়া টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জঙ্গল খুটাখালী পুর্বপাড়া গ্রামের শফি আলমের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৫৩) বাদি হয়ে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং ২৭১১/২০২৩) রুজু করেছেন।
ওই মামলায় এজাহারনামীয় ২২ জন আসামির মধ্যে সভাপতি পদে প্রস্তাব দেওয়া খালেদ মোর্শেদ হিরুকে ১০ নম্বর আসামি হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী অভিভাবকরা।
স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, ঋণদান সমিতির নামে স্থানীয় আরও বিভিন্ন লোকজনের জামানত হিসেবে দেওয়া বিপুল টাকা আত্মসাতের আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে খালেদ মোর্শেদ হিরুসহ তাঁর সহযোগিদের বিরুদ্ধে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
স্কুলের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে থাকলেও খালেদ মোর্শেদ হিরু টাকা আত্মসাতের মতো বিতর্কিত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার আসামি হয়েছেন। সেখানে তাঁকে এডহক কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত করতে প্রধান শিক্ষক কতৃক চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি মোটেও উচিত হয়নি। এই অবস্থায় আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে।
তারা আরও বলেন, বিগত সময়ে প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য ও দাতা ক্যাটাগরী ভোটার তালিকা তৈরীতে নানাধরণের অনিয়মের আশ্রয় নেয়। তাঁর এইধরণের অনিয়মের ঘটনায় আইনী প্রতিকার চেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন কয়েকজন সচেতন অভিভাবক। বিষয়টি এখনো তদন্তনাধিন।
বিষয়টি প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে গতকাল রাত আটটার দিকে খুটাখালী কিশলয় আর্দশ শিক্ষা নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু সংযোগ লাইন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রাম এর বিদ্যালয় পরিদর্শক ড.বিপ্লব গাঙ্গুলি বলেন, আমি এই মুহূর্তে মন্ত্রী মহোদয় এর সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে আছি। পরে কথা বলুন।