সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশে ওমরাহ যাত্রীদের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে। বুধবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। নিহত বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোক বার্তায় নিহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আসির প্রদেশে অভিবাসী ওমরাহ যাত্রী বহনকারী একটি বাস উলটে আগুন ধরে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৪ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) আরিফুজ্জামানসহ দুজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান।
কনস্যুলেট সূত্রে জানা যায়, বাসে ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৫ জনই বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। দুর্ঘটনায় ২৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত ১৭ জনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বাকি ৯ জনের বিষয়েও দূতাবাসের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ওমরাহ পালন করতে তারা মক্কা যাচ্ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট এবং শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর থেকেই তাদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারকে মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার মুরাদনগরের মামুন মিয়া ও রাসেল মোল্লা, নোয়াখালীর মোহাম্মদ হেলাল, লক্ষ্মীপুরের সবুজ হোসাইন, কক্সবাজারের মহেশখালীর মো. আসিফ, গাজীপুরের টঙ্গীর মো. ইমাম হোসাইন রনি, চাঁদপুরের রুকু মিয়া, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিফাত উল্লাহ, কুমিল্লার দেবিদ্বারের গিয়াস হামিদ, যশোরের কোতোয়ালি থানাধীন এলাকার মোহাম্মদ নাজমুল, যশোরের রনি ও কক্সবাজারের মোহাম্মদ হোসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সালাহউদ্দিন, ভোলার বোরহানউদ্দিনের আল আমিন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মিনহাজ, চাঁদপুরের কচুয়ার জুয়েল, মাগুরার শালিখার আফ্রিদি মোল্লা, লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের মো. রিয়াজ, মো. সেলিম, কুমিল্লার লাকসামের দেলোয়ার হোসাইন, নোয়াখালীর সেনবাগের মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, কুমিল্লার মুরাদনগরের ইয়ার হোসাইন, একই এলাকার মো. জাহিদুল ইসলাম, মাগুরার মোহাম্মদপুরের মিজানুর রহমান ও যশোর সদরের মো. মোশাররফ হোসাইন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে যারা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল হাই, রানা, হোসাইন আলী ও কুদ্দুস।