সেমিফাইনালে টিকে থাকতে আফগানদের জন্য ম্যাচটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ৬টি ম্যাচের চারটিতে জিতেছে হাশমতউল্লাহ শহিদীর দল। এই ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে সেমির পথ অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে রশিদ-মুজিবদের। এরপরে তাদের সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে।
অপরদিকে দুটি ম্যাচ জেতা নেদারল্যান্ডসের লখনৌর ইকানা স্টেডিয়ামে আজ (শুক্রবার) ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে গলার কাঁটা হয়ে এসেছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৪টি রানআউট। শেষ পর্যন্ত ডাচরা ১৭৯ রানের পুঁজি দাঁড় করায়। অপরদিকে রানের তাড়ায় রহমত ও অধিনায়ক শহিদীর ফিফটি মাত্র ৩১.৩ ওভারে আফগানদের জয় নিয়ে আসে। তিন ডাচ বোলার একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
রানতাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে হোঁচট খায় আফগানিস্তান। ব্যক্তিগত ১০ রানেই লোগান ভ্যান বিকের বলে উইকেটরকক্ষক স্কট এডওয়ার্ডসকে ক্যাচ দেন আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। প্রথমে আম্পায়ার আউট দেননি, রিভিউ নিয়ে সফলতা পান ডাচ অধিনায়ক এডওয়ার্ডস। শুরুতে উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি আফগানরা। বিশ্বকাপজুড়ে তাদের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের দারুণ ফর্মে ব্যাট করতে দেখা গেছে।
স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে থাকা আফগানরা পাওয়ার প্লে-তে ৫৫ রান তুলে নেয়। এরপর ডাচদের ব্রেকথ্রু এনে দেন রুয়েলফ ভ্যান ডার মারউই। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে ফেলা বলটি ইনসাইড এডজ হয়ে ইব্রাহিম জাদরান স্টাম্পে টেনে আনেন। বোল্ড হয়ে ২০ রানেই ফেরেন আফগান ওপেনার। এরপর শুরু ডাচদের হতাশার গল্প! রহমত শাহের সঙ্গে আফগান অধিনায়ক শহিদী ৭৪ রানের জুটি গড়েন। সাকিব জুলফিকারের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে রহমত বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। ৫৪ বলে ৮টি চারের বাউন্ডারিতে তার ব্যাটে আসে ৫২ রান।
পরবর্তী রানগুলো সহজে সামলেছেন শহিদী ও আজমতউল্লাহ ওমরজা । এই জুটিতে অবশিষ্ট ৫১ রান পেয়ে যায় আফগানরা। শহিদী শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ৬টি চার নিয়ে ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া ৩১ রান (২৮ বল) করেন ওমরজাই। ১১১ বল এবং ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।
৪ রানআউটে দুইশ’র আগেই অলআউট নেদারল্যান্ডস
প্রথম ইনিংসে ডাচদের প্রথমেই আমন্ত্রণ জানান স্পিনার মুজিব-উর-রহমান। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই তিনি ওপেনার ওয়েসলি বারেসির উইকেট তুলে নেন।। এটি তার ৭২তম ওয়ানডে ম্যাচ। আউটসুইং হওয়া বলে ২২ বছর বয়সী এই অফব্রেক স্পিনার বারেসিকে ফেলেছেন লেগ বিফোরের ফাঁদে। বিক্রমজিৎ সিংয়ের বদলে ওপেন করতে নেমেই ব্যর্থ হলেন বারেসি। তিনি ফেরেন মাত্র ১ রানে।
দলীয় ৩ রানেই প্রথম উইকেট হারানোর পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইউরোপের দেশটি। ম্যাক্স ও’ডাউড ও কলিন অ্যাকারম্যান মিলে গড়েন ৭০ রানের জুটি। ফিফটির পথে ছিলেন ম্যাক্স। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ২ রান নিতে গিয়ে ডিরেক্ট হিটে তার স্টাম্প ভাঙেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এর আগে ম্যাক্স ৪০ বলে ৯টি চারের বাউন্ডারিতে ৪২ রান করেন। ফলে ডাচদের সংগ্রহ নেওয়ার পথে ছেদ পড়ে। এরপর তারা আর বড় কোনো জুটি বাধতে পারেনি।
অভিজ্ঞ ব্যাটার কলিন অ্যাকারম্যানও ইনিংস বড় করতে পারেনি (২৯ রান)। মিড অফে ফিল্ডারের হাতে বল দিয়ে তিনি দৌড় দেন। এরপর রশিদ ও উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিল মিলে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান অ্যাকারম্যানকে। ৭৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো দলটি এরপর একশ পূর্ণ করার আগে পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে বসে। মাঝে ব্যাটিংয়ের মূলস্তম্ভ ডাচ অধিনায়ক এডওয়ার্ডসও রানের খাতা খোলার আগে রানআউট। অপরপ্রান্তে তখনও লড়ছিলেন এঙ্গেলব্রেখ্ট।
শেষ পর্যন্ত ৮৬ বলে ৬টি চারের বাউন্ডারিতে ৫৮ করে তিনি রানআউট। এছাড়া তাদের আর কোনো ব্যাটারই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি। ফলে ৪৬.৩ ওভারেই ১৭৯ রানে থামে ডাচদের ইনিংস। আফগানদের হয়ে ২৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন নবি। এছাড়া নুর আহমদ ৩১ রানে দুটি এবং মুজিব এক উইকেট নেন। ৩১ রানে উইকেটশূন্য ছিলেন রশিদ খান।