সেই গফুরের স্বপ্নপূরণ করল ইরামন ফাউন্ডেশন, পেলেন নতুন ঘর
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সেই হতদরিদ্র মো. গফুরের (৫২) স্বপ্ন পুরণ করেছে ইরামন ফাউন্ডেশন। ইরামন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতালের তত্বাবধায়নে তিনি সম্পূর্ণ নতুন ঘর পেয়েছেন।
আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইরামন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকবর হায়দার মুন্না ও আজগার হায়দার তিন কক্ষ বিশিষ্ট চৌচালা টিনের ঘরটি মো. গফুরের হাতে হস্তান্তর করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অ্যাডমিন ম্যানেজার আকবর হোসেন, এম কে মিশন, মো. রুস্তম, ইরামন ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য আবির, জয়, ফরহাদ, এমিলসহ টিম কম্ফিটের খেলোয়াড়বৃন্দ।

গত ২১ জানুয়ারি দেশ বর্তমান অনলাইনে ‘সন্দ্বীপে জরাজীর্ণ বসতঘরে মানবেতর জীবন গফুরের’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে ইরামন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সময়ের আলোচিত প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্নার। এর কয়েকদিন পর তিনি এই প্রতিবেদককে হতদরিদ্র মো. গফুরকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মো. গফুর ভাঙাচোরা কিছু টিনে জোড়াতালি দেয়া ঘরে স্ত্রী রোকেয়া বেগম এবং দুই মেয়ে নুর নাহার পলি ও মহিমাকে নিয়ে থাকতেন। বর্ষায় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে ভেসে যেত ঘর। এমন কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকত না, যেখানে একটু আরাম করে ঘুমাতে পারতেন না।

এর আগে গত বছরের সন্দ্বীপের আরও এক হতদরিদ্র পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছিল ইরামন ফাউন্ডেশন। এছাড়া, এই শীতে সন্দ্বীপের বেড়িবাঁধ এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে প্রায় ২০০০ পিস কম্বল ও ৫০০ পিস জ্যাকেট বিতরণ করে ইরামন ফাউন্ডেশন।
তারও আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ইরামন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে ২০০০ মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম শহর ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
ইরামন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকবর হায়দার মুন্না বলেন, আমাদের ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমরা অসহায় ও দুস্থদের শিক্ষা-চিকিৎসায় সহায়তা ও বাসস্থান নির্মাণ করে দিয়ে থাকি। এর আগে গত বছরের জুনেও সন্দ্বীপের একটি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। সম্প্রতি আমরা খুলনার মোংলা থানার মাদুরপালটা গ্রামে চার সদস্যের একটি পরিবারকে বসতঘর, একই উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ছয় সদস্যের একটি পরিবারকে বসতঘর তৈরি করে দিয়েছি। ইরামন ফাউন্ডেশন আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের পাশেও দাঁড়ায়। গত বছরের এপ্রিলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার গড়কুমারপুর গ্রামে অন্তত ৪১টি পরিবারের জন্য নলকূপ স্থাপন করেছি।
তিনি আরও বলেন, ইরামন ফাউন্ডেশন এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০টি নলকূপ (চাপকল) প্রতিস্থাপন করেছে। রংপুরে একসঙ্গে ৫ পরিবারকে এবং যশোরেও ঘর নির্মাণ করেছে।
আরও পড়ুন : সন্দ্বীপ ও রংপুরে শীতার্তদের শীতবস্ত্র দিয়েছে ইরামন ফাউন্ডেশন