কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইয়াবা, মদ, গাঁজাসহ নানা প্রকার মাদকের কারবার চালিয়ে আশা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুখ্যাত ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ মিনু বেগমকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ মে) রাত সাড়ে আটটার সময় উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সোনারপাড়া এলাকা থেকে ৯৩৭ পিচ ইয়াবা ও এক কেজি গাঁজাসহ তাকে গ্রেফতার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। মিনু বেগম উপজেলার ছোট কুমিরাস্থ রহমতপুর এলাকার জব্বার বাড়ির ফজলুর রহমানের স্ত্রী। চট্টগ্রামে সে আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়া সদস্য হিসেবে পরিচিত। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ।
জানা যায়, মাদক সম্রাজ্ঞী মিনু বেগম কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সাগর ও সড়ক পথে ইয়াবার চালান নিয়ে আসতেন সীতাকুণ্ডের কুমিরার আস্তানায়। কয়েকবার জেল খাটলেও জামিনে এসে পুনরায় মাদকের কারবার করেন মিনু। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ তাকে গ্রেফতারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন৷ সেই লক্ষ্য কয়েক দফায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও মিনু পালিয়ে যায়। থানার কোনো অফিসার মিনুকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করলে নামে-বেনামে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নামে অভিযোগ করে হেনস্তাও করতেন মিনু। এছাড়াও মিনুর রয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীসহ নিজস্ব বাহিনী। যারা বিভিন্ন এলাকায় পাহারা, ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা, মদ ও গাজা পৌঁছে দেন।
কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, মিনুকে যারা গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে নামে বেনামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়। এজন্য তাকে কেউ গ্রেফতার করতে চায় না।
স্থানীয়রা জানান, মিনু বেগম ভয়ঙ্কর মাদক কারবারি। অসাধু কিছু প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করে মিনু মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। পুরো সীতাকুণ্ড এলাকায় মাদকের ভয়াল থাবা ছড়িয়ে দিয়েছেন এই মিনু।
সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ তোফায়েল আহমেদ দেশ বর্তমানকে বলেন, মিনু বেগম একজন আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তার সঙ্গে বড়বড় মাদক মাফিয়ার সখ্যতা রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে নিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আমরা কয়েক দফায় চেষ্টা করেও তাকে গ্রেফতার করতে পারিনি। অবশেষে গতকাল রাতে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।
তিনি আরও বলেন, মিনু বেগমের বিরুদ্ধে ১২টি মাদক মামলা বিচারাধীন আছে। তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। মাদক বিক্রয় ও আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা মিনু স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।