সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বালুবাহী ট্রাক ও নির্মাণশ্রমিক বহনকারী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১১ জন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো চারজন নিহত হন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
বুধবার (৭ জুন) ভোরে ৫টা ৩৯ মিনিটে দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হারিছ মিয়া (৫০), সৌরভ (২৫), সাধু মিয়া (৪০), তায়েফ নুর (৪৫), সাগর (১৮), রশিদ মিয়া (৪০), দুলাল মিয়া (৫৫), বাদশা মিয়া (৪৫) ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ওয়াহিদ আলী (৪০)।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলেই ছুটে গিয়ে সকাল ৭টা পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহতাবস্থায় আটজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর জানিয়েছেন, সকাল ৬টার দিকে প্রায় ৩০ জন নির্মাণ শ্রমিক নিয়ে পার্শ্ববর্তী ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে যাচ্ছিলো একটি পিকআপ ভ্যান। নাজিরবাজারে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে পিকআপ ভ্যানে থাকা ১১ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন। পরে হাসপাতালে আরও চার জন মারা যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ডিউটি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি ট্রাক ও সিলেট থেকে শ্রমিকবাহী একটি ডিআই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজন মারা যান। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপটি এর চালক পালিয়ে যায়। তবে ট্রাকের চালক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। মহাসড়কটিতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। তিন ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে পুলিশি তৎপরতায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
এমএফ