আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভোটগ্রহণের কথা ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমন সিদ্ধান্ত ধরে এগোনো প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজী হাবিবুল আউয়াল মনে করেন, “এখন পর্যন্ত নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, “কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা নিরসনে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের প্রত্যাশা আয়োজক হিসেবে নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। প্রত্যাশা প্রথম থেকেই ছিল, কিন্তু এখনও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশটুকু হয়ে ওঠেনি।”
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যম সম্পাদকদের সঙ্গে এক কর্মশালার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, “আমাদের বিষয়টা হচ্ছে, আন্তরিক যে পরিবেশ সেটা অনুকূল হয়ে উঠুক। এ জন্য সবাইকে নিরন্তর আহ্বান করে যাচ্ছি, সংলাপ করেছি। যারা নির্বাচনে আসতে চান না তাদের আমার পক্ষ থেকে আধা সরকারিপত্র দিয়েছি। কিন্তু সাড়া পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তাদের নিজস্ব কৌশল থাকতে পারে। আমরা তার মধ্যে অনধিকার চর্চা করব না।”
প্রসঙ্গত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিক শিবির দুই ভাগে বিভক্ত। একদল বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন করছে। অন্যদল বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড় থাকার পক্ষে।
বিএনপি বলছে, গত দুটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪ ও ২০১৮) বর্তমান সরকারের অধীনে হয়েছে। দুটি নির্বাচনই বিতর্কিত। ফলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচনে তারা যাবে না। দেশে কোনো নির্বাচন হতেও দেবে না।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টি সংসদে বাতিল করা হয়েছে, আদালতও বাতিল করতে সম্মতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলে কোনো লাভ নেই। বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।
রাজনৈতিক মাঠে দুই দলেই সমমনাদের নিয়ে নিজস্ব অবস্থানের পক্ষে সভা-সমাবেশ করছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক কর্মসূচি তত কঠোর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।