রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি ভবনে এসি বিস্ফোরণের পর দেয়াল ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- শফিকুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ও তুষার। এ ঘটনায় আহত হয়ে ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ছয় জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাতজন।
রোববার ( ০৫ মার্চ ) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে ও আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, রোববার সকালে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ভবনটিতে ৪টি কারণে বিস্ফোরণ হতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, বিল্ডিংয়ের অবস্থা এখন পর্যন্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, বিল্ডিংয়ের অবস্থা ভালো নয়। ভবনটির তিনতলায় ছোট ছোট অফিস ছিল এবং একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানির অফিস ছিল। যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমি মনে করি এই মুহূর্তে ভবনটিতে কারো প্রবেশ করা উচিৎ হবে না। আমরা ঝুঁকি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছি ও পরিদর্শন করেছি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চারটি কারণে এখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। একটি হলো শর্ট সার্কিট, জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও এসি বিস্ফোরণও হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ হলে সঠিক কারণ জানা যাবে।
হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে মিলে ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা গুরুতর। আর শুনেছি তিন জন মারা গেছে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বলেন, রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একটি ভবনে বিস্ফোরণ হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আমরা জানতে পারিনি।