সাড়ে ৩০ হাজার ওজনের বেশি কনটেইনার পরিবহনে বন্দরের না

আমদানিকারকরা অসন্তুষ্ট

সাড়ে ৩০ হাজার ওজনের বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে যাবে না চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে।  চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এমন বাধ্যবাধকতার কারণে নাখোশ আমদানিকরাকরা।  কনটেইনারে পণ্যভর্তিতে ওজনের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও শুল্কায়ন নিয়ে জটিলতার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’র (চবক) পরিবহন শাখা হতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি একটি পরিপত্র জারি করা হয়।  পরিপত্রে বলা হয়, কনটেইনারের ওজনসহ প্রতিটি কনটেইনারে ৩০ হাজার ৪৮০ কেজির ওপরে পণ্য পরিবহন করা যাবে না।  চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে দিয়ে আগত জাহাজগুলো সচরাচর ২০ ফুট এবং ৪০ ফুট কনটেইনারবাহী পণ্য পরিবহন করে।  পরিপত্র জারির আগে বিশ ফুট কনটেইনারে করে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার কেজি পণ্য পরিবহন করা যেতো।  বর্তমান সার্কুলার অনুযায়ী, বিশ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারে ৩০ হাজার ৪৮০ কেজি পণ্য আনা যাবে।  অর্থাৎ ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারযোগে পণ্য পরিবহনের ওজন আগের চেয়ে ছয় হাজার ৪৮০ কেজি বাড়িয়ে আনার সুযোগ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।  অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা।  ৪০ ফুট কনটেইনারযোগে আগের মতো ৩০ হাজার ৪৮০ কেজি পণ্য পরিবহনের সুযোগ অপরিবর্তিত রয়েছে।  এর অতিরিক্ত পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বন্দর প্রশাসন মেইন শিপিং লাইন, এদেশীয় শিপিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে পত্র দিয়েছে। আই. এস. ও-এর গাইডলাইন মানতে গিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এ উদ্যোগ।  বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা যায়, একটি ২০ ফুট দীর্ঘ খালি কনটেইনারের ওজন দুই হাজার ৬০০ কেজি এবং ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কনটেইনারের ওজন তিন হাজার ৯৮০ কেজির মতো।  সে হিসেবে বন্দরের নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, ২৬ হাজার ৫০০ কেজির উপরে পণ্য পরিবহনের সুযোগ নেই।  কিন্তু একজন আমদানিকারককে আদা আমদানির ক্ষেত্রে ২৭ হাজার কেজি এবং রসুন আমদানির ক্ষেত্রে ২৮ হাজার কেজির বিপরীতে ডিউটি পরিশোধ করতে হয়।

আমদানিকারকদের প্রশ্ন, ডিউটি কি আগের নিয়মে পরিশোধ করতে হবে নাকি নতুন ওজন হিসাব করে ডিউটি পরিশোধ করতে হবে।  সার্কুলার জারির পূর্বে যেসব পণ্যের শিপমেন্ট (জাহাজীকরণ) হয়েছে সেসব পণ্যের বাড়তি ওজনের জন্য কোনো পেনাল্টি গুণতে হবে কিনা-সেটি নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএএ) পক্ষে কনটেইনারযোগে ৩০ হাজার ৪৮০ কেজির বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়টি আমলে নেওয়ার জন্য বন্দর প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।  গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বন্দর ভবনে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।  এ প্রসঙ্গে বিএসএএ’র সেক্রেটারী বলেন, কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।  কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) বলেন, কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়নি।  আগে ৪০ ফুট এবং ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারে ভিন্ন ভিন্ন ওজনের পণ্য পরিবহন করা হতো।  বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০ ফুট ও ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারে ৩০ হাজার ৪৮০ কেজি পণ্য পরিবহন করা যাবে না।  তিনি বলেন, এর আগে আমদানিকারকরা কনটেইনারযোগে এর অধিক পণ্য আমদানি করেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর প্রশাসনের জারি করা এ সার্কুলারে নাখোশ আমদানিকারকরা।  আমদানিকাকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারে যে পরিমাণ আদা থাকুক না কেন একজন আমদানিকারককে ২৭ হাজার কেজি (২৭ টান) আদা আমদানির বিপরীতে এনবিআর নির্ধারিত ফি দিয়ে ডিউটি পরিশোধ করতে হয়।  আবার একইভাবে ২৮ হাজার টন রসুনের জন্য অলাদা ডিউটি নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর।  কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী কোনোভাবেই ২৬ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের বেশি পণ্য আমদানি করতে পারবে না একজন আমদানিকারক।

এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক মোহাম্মদ জিয়া বলেন, আমদানিকৃত পণ্য শুল্কায়ন ও খালাসে নিয়োজিত থাকে সিএন্ডএফ এজেন্ট।  এক কনটেইনার (২৮ টন) আদা কিংবা রসুনের (২৭ টন) জন্য এনবিআর নির্ধারিত ডিউটিসহ বন্দরের কমিশন এবং অন্যান্য ফি সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকি।  নতুন সার্কুলার অনুযায়ী কোনো পেনাল্টি কিংবা বাড়তি ডিউটি গুণতে হবে কিনা সেটাও স্পষ্ট করা উচিত।  যাতে শুল্কায়নে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।