সাতকানিয়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা খুন, ইউপি সদস্যসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ছুরিকাঘাতে নিহতের ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপিসদস্যসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় আরও ৬/৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিহত শাহাদাতের ছোট ভাই মো. খোরশেদ আলম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন গ্রেফতারকৃত মো. বাহার উদ্দীন তারেককে ১ নম্বর ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুর রহমানকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার ২ নম্বর আসামি স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে অন্যান্যরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ দেশি-বিদেশি মাদক ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। ফলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কমতে থাকে। নিহতের চাচা আবু তালেব ঘটনাস্থলসহ ওই এলাকায় রাত্রীকালীন প্রহরী থাকার কারণে অপরাধীরা বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। ১ নম্বর আসামি তারেক মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। ২ নং আসামি ইউপি সদস্য আরিফুর রহমান তারেকের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। আরিফের নেতৃত্বে গঠন করা হয় মাদক ব্যবসার বাহিনী। ঘটনার দিন আবু তালেবের ভাতিজা নিহত শাহাদাত ও আহত আনোয়ার চাচাকে মারধরের বিষয়টি তারেকের কাছ থেকে জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারেকের হাতে থাকা ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাহাদাত, তার ভাই আনোয়ার ও শাহনেওয়াজ আহত হন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের খুঁজে বের করা হবে। ইতোমধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বর উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মিঠাদীঘি এলাকায় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী মো. বাহার উদ্দীন তারেকের ছুরিকাঘাতে ছদাহা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন নিহত হন। ছুরিকাঘাতে আহত হন, তার আপন ভাই ছদাহা ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও অপর ভাই ব্যবসায়ী মো. শাহনেওয়াজ।