সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে আত্মসাতের চেষ্টা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় থানা থেকে সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে আত্মসাতের চেষ্টা করেন এক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। ওই যুবলীগ নেতার নেতার নাম সলিমুল্লাহ সলিম (৩৯)। তিনি উপজেলার ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয় প্রেস ক্লাব, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের চাপে তিনদিন পর মোবাইলটি ফেরত দিতে বাধ্য হলেও ফ্লাশ করার কারণে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি ও ভিডিও চিত্র মুছে যায়। এছাড়া, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজের মোবাইলে সরিয়ে নেন ওই যুবলীগ নেতা। এতে ভবিষ্যতে নানা ধরনের সমস্যা ও বিপদে পড়ার আশঙ্কাপ্রকাশ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিন ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের মিরসরাই সংবাদদাতা। তিনি বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মিরসরাইয়ের ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নের আজমপুর বাজারে বিএনপি নেতা নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারী ও স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের বক্তব্যের জন্য প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যাই। পরবর্তীতে নিহত কিশোর রুমনের পরিবারের বক্তব্য নেয়ার জন্য জোরারগঞ্জ থানায় যাই। সেখানে রুমনের মায়ের বক্তব্য নেওয়ার সময় ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি উপস্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের উত্তেজিত করে আমার মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন। এ সময় তারা আমাকে মারধরের চেষ্টাও করেন।

‘পরে নিজের নিরাপত্তার জন্য জোরারগঞ্জ থানায় ভেতরে আশ্রয় নিলে সেখানেও তারা আমার ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক মোবাইলের পাসওয়ার্ড দিতে বাধ্য করে। পরে তারা মোবাইলের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলে।
এছাড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও ভিডিও সেই যুবলীগ নেতার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে মোবাইলটি ফেরত চেয়ে মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা তাকে ফোন করলে তার কাছে মোবাইলটি নেই বলে জানায় এবং মোবাইলটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ফ্লাশ দিয়ে টানা তিনদিন বন্ধ করে রাখে।

জানা যায়, তিনদিন পর (১ অক্টোবর রবিবার) মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মিঠু, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপে পড়ে মোবাইলটি অন্য একজনের মাধ্যমে ফেরত পাঠান যুবলীগ নেতা সলিমুল্লাহ সলিম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাইয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ব্যাপারে জানতে পেরেছি। আমরা ওই ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকে তলব করে জিজ্ঞেস করব কেন তিনি এই কাজ করলেন। তিনি যদি রাজনৈতিক স্বার্থে মোবাইলটি ছিনিয়ে নিত তাহলে সে রাজনৈতিক দায়িত্বশীলদের কাছে হস্তান্তর করতে পারত। কিন্তু তিনি সেটা না করে মোবাইল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজের মোবাইলে সরিয়ে নেয়ার পর ওই মোবাইল ফ্লাশ মেরে বন্ধ করে রেখে দেন ৩ দিন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই দায়ভার মিরসরাই উপজেলা যুবলীগ নেবে না।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিন আজ (রবিবার) জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।