দুই সর্বোচ্চ দরদাতাকে রেখে সর্বনিম্ন দরদাতাকে ২টি বালুর স্তূপ নিলাম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গত ৩ জুলাই চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী শঙ্খ নদীর তীরবর্তী ২টি বালির স্তূপ নিলামে এমন অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন ২য় সর্বোচ্চ দরদাতা মঈনুদ্দিন ভুঁইয়া ওয়াসিম। বিপুল পরিমাণ বালি কম দেখিয়ে সরকারকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ে ফাঁকি দিয়েছেন অভিযোগ এনে পুন:নিলামের আবেদন জানিয়ে গত ৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাইনি বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। সরকার এই নিলাম থেকে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে জানিয়ে এই নিলাম স্থগিতাদেশ এবং পুনঃনিলাম চেয়ে হাই-কোর্টে রিট করবেন বলে জানান মঈনুদ্দিন।
গত ৯ জুলাই দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনে দেখা যায়, বৈলতলী বালির সরকারিভাবে পরিমাপ করে ৫৩ হাজার ৭৫৪ ঘনফুট বালি দেখানো হলেও অভিযোগকারির দাবি সেখানে ১ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট বালি রয়েছে। অপরদিকে, ৭নং স্তূপে সরকারিভাবে ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৭৪০ ঘনফুট বালি পরিমাপ করা হলেও তাঁর দাবি সেখানে ৬৫ লাখ ঘনফুট বালি রয়েছে। দরপত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৩৭ টাকা, ২য় সর্বোচ্চ দরদাতা ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ৬১০ টাকা ও সর্বনিম্ন দরদাতা ২০ লাখ ১৫ হাজার টাকায় দরপত্র দাখিল করেছেন। যেখানে সর্বনিম্ন দর দাতাকেই কৌশলে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার।
এ ব্যাপারে তিনি মৌখিকভাবে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার না পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান অভিযোগকারী মঈনুদ্দিন ভুঁইয়া ওয়াসিম। তিনি দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট মহল প্রায় ১ লাখ ঘনফুট বালি কম দেখিয়ে নিজেরা অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন। আমি বিষয়টি বালির স্তূপ পরিদর্শন শেষে কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। যেখানে বালির পরিমান ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৭৪০ ঘনফুট দেখিয়েছে সেখানে প্রকৃত পক্ষে (বৈলতলী স্তূপ-৭) বালির পরিমাণ ৬৫ লাখ ঘনফুটের বেশী হবে। উল্লেখিত বালির প্রাক্কলিত মূল্য অনুসারে ৮নং শর্তানুযায়ী গত ২ সেপ্টেম্বর (পে-অর্ডার নং- ৪৪৯৬৪০৮), ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৮ টাকা জামানত হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম এর অনুকূলে জমা দিয়েছি। এবং ৬ নাম্বার স্তূপের জন্য ১০ হাজার ৭৫১ টাকা জমা দিয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমার পে-অর্ডার এর পরিমাণ কম দেখিয়ে আমার দরপত্র বাতিল করা হয়। অথচ আমি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপত্র দাতা (৩৭,৭০,৬১০ টাকা) ছিলাম। তবে মহাঅনিয়মের ব্যাপার হলো নিলামের দিন প্রথম সর্বোচ্চ দরদাতা (৬৪,১০,০৩৭ টাকা) হিসেবে ইকবাল হোসেনকে ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে জানতে পারি পারস্পরিক সহযোগিতায় নিলামের শর্তাবলীর ৮নং শর্ত লঙ্গন করে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরপত্রদাতা (২০,১৫,০০০ টাকা) মো. সরোয়ার এর দরপত্র গ্রহন করেছেন। যার ফলে সরকার প্রায় ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার নিলামে প্রাক্কলিত মূল্য অনুযায়ী নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত জামানতের টাকা ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডার হিসেবে দিলেই দরপত্র বৈধ করে দরপত্র গ্রহন করেছেন। তাছাড়া দরপত্রের দর গোপন রাখার জন্য দরপত্র দাতাগন দরপত্র দাখিলের ৫/১০ মিনিট আগে দর বসান, সেক্ষেত্রে নতুন করে ঐ সময়ের মধ্যে উদ্ধৃত মূল্যের ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার করার সুযোগ থাকে না। একদিকে স্থানীয় ভাবে বালি পরিমাপের সময় বিপুল পরিমাণ বালি কম দেখিয়ে সরকারকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ে ফাঁকি দিয়েছেন, অন্যদিকে, সর্বোচ্চ দরপত্র দাতাদের দরপত্র গ্রহন না করে সর্বনিম্ন দরপত্রদাতাদের দরপত্র গ্রহন করে সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করেছেন।
এ সময় মঈনুদ্দিন আরো অভিযোগ করে বলেন, কি কারণে আমার টেন্ডার বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কে টেন্ডার পেয়েছে তার লিখিত চেয়ে তথ্য অধিকারে ইউএনও বরাবর আবেদন করলেও দেওয়া হয়নি কোন তথ্য। উক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট করবেন বলেও জানান তিনি।
তবে মঈনুদ্দিনের করা অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম। তিনি দৈনিক দেশ বর্তমানকে জানান, এই নিলাম হয়েছে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১০ এবং বিধিমালা ২০১১ অনুযায়ী। সবকিছু বিধি মোতাবেক করা হয়েছে। ওনারা উদ্ধৃত ২৫ শতাংশ পে-অর্ডার জমা না করার কারণে তাদের দরপত্র বাতিল করে সঠিক দরপত্রদাতাকে নিলাম দেয়া হয়েছে। বিধি মোতাবেকভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলেও জানান ইউএনও।
অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার ফখরুজ্জামান দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, এই নিলামে অনিয়ম হওয়ার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। যারা টেন্ডার পাইনি তারা বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ আনছে বলেও জানান তিনি
দেশ বর্তমান/এআই