প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন রোগভোগের পর সোমবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮১ বছর বয়সী এই কালজয়ী কথাসাহিত্যিক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় সমরেশ মজুমদারের আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সমরেশ মজুমদার ভর্তি হয়েছিলেন। আগে থেকেই তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা আরও জটিল হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান।
সমরেশ মজুমদারের জন্ম ১৯৪২ সালের ১০ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের গয়ের কাটায়। তার শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা বাগানে। স্কুলজীবন কেটেছে জলপাইগুড়িতে। ষাটের দশকের শুরুর দিকে কলকাতায় এসে স্কটিশ চার্চ কলেজে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। সমরেশ মজুমদারের লেখালিখির শুরু গ্রুপ থিয়েটার ও নাটক লেখার মধ্য দিয়ে। তার প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। শহরকেন্দ্রিক জীবনের আলেখ্য বারবার উঠে এসেছে সমরেশ মজুমদারের লেখায়। যে কারণে তাকে আপাদমস্তক ‘আরবান’ লেখক বলে অনেক সময় বর্ণনা করা হয়েছে।
‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮৪ সালে ‘সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার’ পান সমরেশ মজুমদার। এ ছাড়া আনন্দ পুরস্কার, বিএফজেএ (বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিযয়েশন অ্যাওয়ার্ড) পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে সমরেশ মজুমদারকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।
সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসের বিষয়, গল্প ও গঠনশৈলী ছিল গতানুগতিক ধারার বাইরে। সহজেই তিনি দুই বাংলার পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক জানিয়েছেন।