প্রায় নিয়মিত ভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে সৌদি আরব থেকে। গত কয়েক বছর ধরে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর তৃতীয় স্থানে আরব আমিরাত এবং চতুর্থ স্থানে নাম থাকে যুক্তরাজ্যের। তবে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স প্রেরণে যেন দেখিয়েছেন চমক। এবার সব দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে দেশটি।
চলতি বছরের অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে চমক দেখিয়েছে আমিরাত প্রবাসীরা। সকল দেশকে পেছনে ফেলে সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত এবার প্রথম স্থানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে সেপ্টেম্বর মাসে দেশে মোট ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সদ্য বিদায়ী অক্টোবর মাসে তা আরো বেড়ে ১৯৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার হয়।
দুবাই ব্যবসায়ী সালাউদ্দীনের মন্তব্য, প্রবাসীরা মুলত সরকার ঘোষিত ৫% প্রণোদনা লাভের প্রত্যাশায় অবৈধ পথে টাকা না পাঠিয়ে, বৈধ পথটি বেঁচে নিয়েছেন । তিনি আরো জানান, হুন্ডি একটি জনপ্রিয় লেনদেন হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের জন্যে। কারন এই অবৈধ মাধ্যমে দেশে টাকা প্রেরণে যাতায়াত খরচ হয়না এবং প্রয়োজন হয়না কোন প্রকার ফি। একই সাথে সাধারণ প্রবাসীরা কোন প্রকার ঝামেলা না থাকায় ও দ্রুত সেবার প্রত্যাশায় এই পথটি বেঁচে নেয়।তাই বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যদি রেমিট্যান্স আরে বৃদ্ধি করতে চায়।
রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রায় সময় সৌদি আরব প্রবাসীরা এগিয়ে থাকলেও এবার সেই রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথম স্থানে আমিরাত । বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে শুধু আমিরাত থেকে ৩২ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। অক্টোবরে প্রায় প্রতিটি দেশের এই প্রবাসী আয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
গত অক্টোবর মাসের প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের এই রেকর্ড অল্পের জন্যে ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছুঁতে পারেনি।
কমিউনিটি নেতা সিরাজুদ্দৌলা জানান, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২.৫% থেকে ৫% প্রণোদনা বৃদ্ধির ঘোষনায় মুলত আবার সচল হতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতির এই চাকা। প্রণোদনার আশায় অনেকেই হয়েছেন হুন্ডি বিমুখীও। তবে এখনো ব্যাংকে ৫% প্রণোদনা না পাওয়াতে আশাহত হয়েছেন প্রবাসীরা।
তাই সকল প্রবাসীদের দাবী যেন সরকার ঘোষিত ৫ % এই প্রনোদনা দ্রুত কার্যকর করা হয়।