সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রধান সেনানী বিএনপির ধারাবাহিক আন্দোলনের এখন চলছে চূড়ান্ত ধাপ। যেহেতু সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করা হয়েছে এর পর কি থাকতে পারে। তারা বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যাবে না সাফ ঘোষণা দিয়েছে। সরকার পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করেই তারা নির্বাচনে যাবে। এ ছাড়া তাদের সামনে আপাতত আর কোন পথ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও সংবিধানের বাইরে না গিয়ে শেখ হাসিনার অধীনেই দ্বাদশ নির্বাচনের আয়োজন করার দৃঢ় প্রত্যায় ঘোষণা করেছে। কথা উঠেছে বিএনপির ছয় মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারকে দাবি আদায়ে তারা কতটা চাপে ফেলতে পারলো কিংবা সরকারী দল আওয়ামী লীগ বিএনপির আন্দোলনকে কতটা মোকাবেলা করতে পারছে জনমনে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। দুই দলের মানা না মানার এ পথ চলা যদি না থামে তবে কি ? কেউ কেউ জবাবে বলছেন, আবার সংঘাত, সংঘর্ষ হয়ত দুই পক্ষকে এক জায়গায় আনতে না পারার ফল জনগণকে আবার ভোগ করতে হবে, হয়ত কিছুদিনের জন্য আবার অনির্বাচিত সরকারের কবলে পড়তে হবে দেশকে। যা কারোই প্রত্যাশার নয়।
এদিকে আগামী ২৭ জুলাই ঢাকায় আবারও মহসাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এদিন আওয়ামী যুবগীল, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্চাসেবক লীগও তাদের যুব জয়যাত্রা কর্মসূচির তারিখ ঘোষণা করেছে। তারা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। একই দিনে দুটো বড় সমাবেশ হলে পরিস্থিতি কি হতে পারে তাই এখন চিন্তার বিষয়।
প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপি মহাসমাবেশ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়। তার আগে তারা প্রত্যেক বিভাগে বিভাগে সমাবেশ করেছে। সবগুলো সমাবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হওয়াতে তাতে প্রচুর দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু দশ ডিসেম্বরে তারা সরকারের পতন ঘটিয়ে দেবে ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিকে কিছুটা উত্তেজনাময় করে তুলেছিল। ফলে সরকারও রাজনৈতিক কৌশলে সমাবেশের অনুমতি নিয়ে কিছুটা খেলেছে। তার উপর সমাবেশের আগেই বিএনপির মহাসচিব সহ সিনিয়র কয়েক নেতাকে আটক করে দলটির নেতাকর্মীদেরকে কিছুটা হলেও মনোবল ভেঙ্গে দিতে পেরেছে। কিন্তু বিএনপি বারবার ভুল চাল দিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ থেকে সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের ঘোষণাটাও একটি ভুল চাল ছিল। মাত্র ৭ জন এমপির পদত্যাগে সাড়ে ৩শ আসনের সংসদে কোন চাপই বুঝা গেলো না। বরং সাত এমপি সংসদে থেকে মহাসচিব সহ আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হলে রাজনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হতে পারতো। বরং ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে একটি এমপি প্রার্থীকে হারাতে হলো। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আবদুর রশিদের আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রাথী হয়ে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মৌন সমর্থনে জিতে গেছে। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে আগামীতে নির্বাচন করবেন শক্তিশালি প্রার্থী হিসেবে। তিনি বারবার বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করে জিতে আসা নেতা। তার বিজয় বিএনপিকে বিব্রত করেছে নিঃসন্দেহে।
যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন যে সরকার চাপ অনুভব করছে বলেই বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে ‘চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’
বিএনপির একজন নেতা বলছেন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ঢাকা পর্যন্ত বিএনপির ধারাবাহিক প্রতিবাদের কারণেই সরকার জনসমর্থন হারিয়েছে এবং সামনে তারা আরও চাপ অনুভব করবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন গত বছরের শেষ দিকে বিভাগীয় শহরগুলোতে নানা বাধা বিপত্তির মধ্যেও সমাবেশগুলো সফল করার মধ্য দিয়ে বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলন একটি ধাপ অতিক্রম করেছে।
ওই সমাবেশের শেষ ধাপে ঢাকার সমাবেশ থেকেই দলটির এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছিলো দলের ভেতরেই। কিন্তু এ সত্ত্বেও এমপিরা শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন।
সব মিলিয়ে আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে এমপিদের পদত্যাগের পরেও সরকারের উপর কার্যত কোনো চাপ দলটি তৈরি করতে পেরেছে কি-না তা নিয়েই এখন আলোচনা হচ্ছে দলের ভেতরে ও বাইরে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক গোবিন্দ চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বিবিসিকে বলেছেন গত ডিসেম্বর নাগাদ একটা মোমেন্টাম বিএনপি তৈরি করলেও পরে সেটাকে আর ধরে রাখতে পারেনি।
“আসলে দলটি তাদের কর্মী সমর্থকদের নামাতে পেরেছে কিন্তু একটা আন্দোলনের চূড়ান্ত সফলতার জন্য মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে আনার মতো সাংগঠনিক দক্ষতা তারা দেখাতে পারেনি। আর এর কারণ হলো সরকারি দল আওয়ামী লীগ বরাবরই সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলে শক্তিশালী।”
মি. চক্রবর্তী বলছেন, যে পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে আসে তেমন কোনো পরিস্থিতি বিএনপি তৈরিই করতে পারেনি।
“তবে বিএনপি চেষ্টা করছে এবং সেই চেষ্টাটা গত কিছুদিন ধরেই অনেক বেশি প্রকট। যদিও সরকারের অবস্থান ও কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষকে রাস্তায় এনে দাবি আদায় বিএনপির জন্য অতোটা সহজ হবে না।”
যদিও এর মধ্যেই সমমনা দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ কর্মসূচি পালনও শুরু করেছে বিএনপি। দলের নেতাকর্মীরা অনেকেই অবশ্য বলছেন দশই ডিসেম্বরকে সফল করতে গিয়ে অনেক বড় আঘাত দলটিকে সইতে হয়েছে এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ অনেককে জেলে যেতে হয়েছে। এসব কারণে নির্বাচনের সময় আসা পর্যন্ত সংঘাতে না গিয়েই ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে এগুতে চায় দলটি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলছেন আন্দোলন একটি ধারাবাহিক কাজ এবং বিএনপি সেটি করছে আর এর ফলে সরকার আরও আগে থেকেই চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে বলে মনে করেন তিনি।
“চাপে না পড়লে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই কেন বিএনপিকে টার্গেট করে কথা বলছেন। আর সরকার যাতে আরও চাপে পড়ে বিএনপি সেদিকেই যাচ্ছে,” বলছিলেন তিনি।
বিএনপি নেতাদের একটাই বক্তব্য ‘সরকার যতো নির্মম পন্থাই অবলম্বন করুক না কেন রাজনৈতিক মোমেন্টাম কখন কোন দিকে মোড় নেয় সেটি সময় আসলেই বোঝা যাবে।
অর্থাৎ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই দলটি তাদের আন্দোলনকে আরও জোরদার করবে এবং নির্বাচনের সময় যাতে নির্দলীয় সরকারের দাবি সরকার মেনে নেয় সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা তখনই চালাবে তারা।
যদিও সরকারি দল আওয়ামী লীগ বরাবরই বলছেন নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনেই। চলমান বাংলাদেশের গতিকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনাই এখনও অবিকল্প। তাই সব চ্যালেঞ্জ আশীর্বাদে পরিণত করার ভরসাও তিনি। তাই তো সামনের নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করার জন্য সিলেবাস প্রস্তুতি ও মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরির কাজটি করতে হবে খুব সাহসিকতার সাথে।
তবে এটাও বলার অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের জনভিত্তি এতোটা নড়বড়ে হয়ে যায়নি বা দেশের জনগণের রাজনৈতিক জ্ঞান এতোটাই নিম্নগামী নয় যে তারা ভিত্তিহীন দলের সমাহারে আপ্লুত হয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করবে। বাকি রইলো আন্তর্জাতিক বড় ভাইয়েরা।
বিএনপির আন্দোলনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশিরা দলে দলে আসতে থাকে ঢাকায়। তারা সরকার ও বিরোধী দলের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করেই যাচ্ছে। কিন্তু সমাধানের পথে তারা কেউ হাঁটছেন বলেও মনে হচ্ছে না। তারা দু দলকে কি বলছেন তা মানুষের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে। কারণ বৈঠকের পর আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতারা সাংবাদিকদেরকে যার যার গা বাঁচিয়ে কথা বলছেন। তাতে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে তারা আসাতে দুই দল কিছুটা হলেও নমনীয় । কিন্তু শেষটা কি হবে তা কেউই বলতে পারছে না। তাই জনমনে ভয় বেড়ে যাচ্ছে। কোন দল কি করে।
বিদেশিদের মধ্যে ইইউ ও মার্কিন সরকার তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাই। ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ এখন একটি বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। প্রতিবেশি ভারতের মৌন সমর্থন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উপর তা জনগণ ভালো করেই জানে। বাংলাদেশের কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভারতের সমর্থন ছাড়া করেনা বিশ্বে প্রতাপশালী দেশগুলো।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলের যে হিসাব-নিকাশ সেখানে উঠতি অর্থনৈতিক শক্তির দেশ বাংলাদেশের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাকেই তারা চায়। তারপরও পেছনের অংক তো আর থেমে নেই। সেই অংকেও তারা সংখ্যার চেয়েও গুণগত হিসাবটাকেই প্রাধান্য দেবে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের ধারনাটাও বিএনপির হিসাব যাই হোক না কেন, আগামী নির্বাচনে আসার বাইরে তাদের দেশ বা দেশের বাইরে কোথাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তাই তারা যেভাবেই হোক, নির্বাচনে আসার রাস্তা খুঁজছে। তবে আগামী নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগেরও কিন্তু চ্যালেঞ্জ কম হবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তারা দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছে। পদ্মা সেতুর চ্যালেঞ্জে ১০০ নাম্বার পেয়ে সবার ওপর চলে এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় যে জায়গাটিতে জনগণের অসন্তোষের বীজটি লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক ডিউ ডিলিজেন্সের বিষয়টিতে।
উন্নয়নকে সমস্তরের বণ্টনের হিসাবটি হয়তো পুরোপুরি আয়ত্তে আনাটা অর্থনীতির হিসাবেই অসম্ভব কিন্তু অর্থনৈতিক শৃংখলার জায়গাটিকে দিতে হবে প্রাধান্য। একদিকে দ্রব্যমূল্য বেড়ে চলেছে অন্যদিকে শত শত কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে লুটেরারা। সেই টাকা আবার দেশেও থাকছে না। চলে যাচ্ছে পাচার হয়ে। ব্যাংকগুলোতে রেগুলেশনের সমস্যা। সাধারণ মানুষ অর্থনীতির অত মারপ্যাঁচ বোঝে না। তারা উন্নতি বলতে বুঝে কত কম টাকায় বাজার করতে পারছে আর আয়ের কত অংশ বাঁচিয়ে রাখতে পারছে।
বড় বড় প্রকল্পের মধ্যে কেবল পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ এখনও চলছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সাধারণ মানুষের হিসাবের খাতায় জমা হয়েছে কিছু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। কাজগুলো শেষ হলে যখন উপকারিতার হিসাবটিই দৃশ্যমান হবে তখন হয়তো আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটি ফিরে আসবে। কিন্তু আগামী নির্বাচনের আগে কতটা কী হবে সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। পাশাপাশি আছে সরকারবিরোধীদের প্রোপাগান্ডা। তাই বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জও কম ভোগাবে না সরকারকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দেশের সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতা। দেশে যেহারে ভণ্ড ও লেবাসধারী ধার্মিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সেটিকে যদি সঠিক ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে এই অস্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পিলারকে ধাক্কা দিতেই থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে, করোনার ধাক্কায় যখন বিশ্ব অর্থনীতি বেসামাল হয়ে পড়েছে তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল। এই কৃতিত্ব কেবল একজন শেখ হাসিনাকেই দেওয়া যায়। করোনা মহামারি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মানুষকে এর সাথেই বসবাস করার প্রস্তুতি নেয়া লাগবে এই দূরদর্শী চিন্তার থেকেই তিনি বাংলাদেশের আশু অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটকে মোকাবিলায় দেশের সব ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করে দিয়েছিলেন। বহু সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করে তিনি একজন মানুষও যেন না খেয়ে মরে সেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সংসারের বাস্তবতা বুঝেই কর্তাকে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হয়। আর এই হিসাবে তিনি একদম পাক্কা কান্ডারির মতোই ভূমিকা রেখেছিলেন।
কথা হচ্ছে, এই যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার গুণগান, এটি লম্বা করতে হলেও সরকারকে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়ে আসতে হবে। সেই বৈতরণী কেবল সরকারের নিজের জন্য নয়, দরকার গোটা দেশের জন্যই। এমনকি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অংকের হিসাবেও এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থানকে দৃঢ় করতে হলে এই সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন বলেও অনেকে মনে করছেন। অন্তত চলমান বাংলাদেশের গতিকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনাই এখনও অবিকল্প। তাই সব চ্যালেঞ্জকে আশীর্বাদে পরিণত করার ভরসাও তিনি দলের নেতাদের তেমনিই ধারনা।
রাজনীতির মাঠ যাতে বিএনপির দখলে না যায়, সে জন্য আওয়ামী লীগ আগামীতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকবে। সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবিলায় গত বছর নভেম্বর থেকেই বিএনপির কর্মসূচির দিন ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
তখন দলটির নীতিনির্ধারকরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বা তাদের যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। ঘোষণা অনুযায়ী দলটির এই অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাই নেতারা বলছেন।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, সরকার বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে তারা চিন্তিত নন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করলে তাতে বাধা দেওয়া দেওয়া হবে না।
তবে আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, সন্ত্রাসী তৎপরতা বা তাতে সহিংসতার উপাদান যুক্ত করার চেষ্টা হলে সরকার ও আওয়ামী লীগ কঠোর হবে। তাইতো সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ফিরে যাচ্ছে পুরোদমে। আগামী ৬ আগস্ট দলের বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। তাতে দলীয় সভাপতি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির দিক নির্দেশনা দেবেন বলে নেতারা জানাচ্ছেন। বিএনপি নির্বাচনে না এলে শেষ পর্যন্ত যাতে নির্বাচন করা যায় তার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে আওয়ামী লীগ।