শ্রীপুরে কারখানায় প্রকৌশলীর লাশ, জনমনে প্রশ্ন আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা ?

গাজীপুরের শ্রীপুরে নাইস ফেব্রিক্স প্রসেসিং লিমিটেড কারখানা থেকে এক সহকারী প্রকৌশলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার পা ছিল মেঝেতে এবং হাত ছিল গ্রীলের কাছে। তার মৃতদেহের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহ দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড ?

ওই সহকারী প্রকৌশলীর নাম রনি শেখ (২৬)। কারখানার ভেতরে জানালার রেলিংয়ে গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় লাশটি ঝুলছিল। এ সময় তাঁর পা মেঝেতে লেগে ছিল এবং হাতের কাছেই ছিল গ্রিল।

রোববার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের নাইস ফেব্রিক্স প্রসেসিং লিমিটেড কারখানা থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা-পুলিশ। রনি শেখ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন হাজারীর সন্তান।

কারখানাটির ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘যে ঘরের বারান্দায় রনির লাশ পাওয়া গেছে, সেই কক্ষে রনিসহ সাতজন কর্মকর্তা থাকেন। সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে যে যার মতো কর্মস্থলে চলে যান। কিছুক্ষণ পর একজন ঘরের বারান্দার দরজা ভেজানো দেখে দরজা খুলে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে আমাকে জানালে আমি পুলিশে খবর দিই। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই মৃতদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়লে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ অনলাইন এক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আরিফ মন্ডল ও নাইম হাসানসহ অনেকেই। ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে তারা লিখেছেন, ‘এটা আত্মহত্যা হয় কী করে? এটা আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? প্রকৃত ঘটনা যেন ধামাচাপা না পড়ে, তারা সে দাবিও জানান’।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাঈল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কারখানার কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। আমরা যাচাই-বাছাই করছি। তাঁর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’