শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সাঈদীর জন্য দোয়া, ইমামসহ দুজন কারাগারে

নওগাঁয় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য দোয়া করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার ইমামসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই ইমামসহ এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

বুধবার (১৬ আগস্ট) গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন: শহরের পার-নওগাঁ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জেম হোসেন, তাজ মোড় এলাকার রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, পৌর আওয়ামী লীগের ব্যানারে শহীদ মিনারে দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণের আয়োজন করা হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। মোনাজাতের শেষ মুহূর্তে এসে ইমাম মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জামায়াত নেতা সাঈদীর জন্য দোয়া করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা সাঈদীর জন্য দোয়া চাইতে নিষেধ করেন। পরে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন ইমাম মোজ্জায়েম হোসেন।

ইমাম জানান, ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান হাফিজ তাকে সাঈদীর জন্য দোয়া পাঠের জন্য বলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে ইমাম মোয়াজ্জেম হোসেন ও হাফিজুর রহমানকে থানায় নিয়ে যায়।

দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস রেজা তুহিন। তিনি বলেন, ‘মোনাজাত চলাকালে হঠাৎ ইমাম সাঈদীর মৃত্যুতে দোয়া করেন। তাৎক্ষণিক ওই ইমামের এমন কাণ্ড দেখে নেতাকর্মীরা হতবাক। এ ঘটনায় আমরা বিব্রত।’

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, আগের একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় সন্ধ্যায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। মামলার বাদী পুলিশ। রাতে ওই মামলায় আসামিদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।