শেষ বলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে আরেকটি অসাধ্য সাধন করলো বাংলাদেশ।  যে ম্যাচে হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, সেখানেই ৪ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।   রবিবার (১৪ মে)  তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নাটকীয় এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতে নিয়েছে টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।  মোস্তাফিজুর রহমান ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যান অব দ্য সিরিজ হন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সব কটি উইকেট হারিয়ে ৪৮.৫ ওভারে ২৭৪ রানের সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।  জবাবে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭০ রান করে স্বাগতিকরা।

পল স্টার্লিং ও অ্যান্ড্রু বালবার্নির ব্যাটিং নৈপুণ্যে ২১ ওভারেই দলীয় ১০০ রান তুলে নেয় আইরিশরা।  ক্যারিয়ারের ২৭তম ওয়ানডে ফিফটি হাকান স্টার্লিং।  অধিনায়ক অন্যপ্রান্তে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।  তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি (৫৩)।  কিন্তু পরপরই অধিনায়কের উইকেট তুলে নেন এবাদত। বালবার্নি’র পর দলকে নির্ভরতা দেন স্টার্লিং।  তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন হ্যারি টেক্টর।

তবে ইনিংসের ৩২তম ওভারে মেহেদি মিরাজের বলে মৃত্যুঞ্জয়ের অসাধারণ এক ক্যাচে হাতে ধরা পড়ে আউট হন স্টার্লিং (৬৩)।  এরপরই টেক্টর মোটামুটি ভালই খেলছিলেন।  এবার তাকে ফেরাতে টপ-অর্ডার ব্যাটার শান্ত’র হাতে বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক।  এসেই ভেলকি দেখালেন তিনি।  শান্তর বলে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টেক্টর (৪৫)।  আর এতে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের দেখা পান শান্ত।

এরপর কার্টিস ক্যাম্ফার ও জর্জ ডকরেলের উইকেট তুলে নেন টাইগার সেরা অস্ত্র মোস্তাফিজুর।  সিরিজের সমতায় আনার জন্য শেষ ১২ বলে আইরিশদের প্রয়োজন ছিল ২৪ এবং শেষ ৬ বলে ১০ রানের।  এতে এডেয়ার কিছুটা ভেল্কি দেখালেও বাকিরা ব্যর্থ হন।  শেষ ওভারে হাসানের কারিশমায় ২৭০-এ গিয়ে থামে আরিশদের ইনিংস।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।  ওয়ানডেতে প্রথমবারের মত ওপেনিংয়ে নেমে ব্যর্থ হন অভিষিক্ত রনি তালুকদার।  পরপর ১২ ডট বল খেলে ১৩তম বলে চার মারলেও পরের বলে আউট হয়ে যান।

তিনে নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৫), চারে লিটন দাস (৩৫) ও মিডল-অর্ডারে মুশফিকুর (৪৫) ও মেহেদী মিরাজ (৩৭)-রা ভালোই শুরু করেছিলেন।  তবে তাদের কেউই বড় স্কোরের দিকে অগ্রসর হতে পারেননি।

কেবল তামিমই ফিফটির দেখা পান।  তিনি ৬ বাউন্ডারিতে ৬৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।  ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আশা জাগিয়েছিলেন মুশফিক ও মিরাজ।  এই জুটির অবদান ৭৫ রান। এরপর জুটি ভাঙলে আর কেউই ক্রিজে থিতু হতে পারেননি।  শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৭ বল বাকি থাকতেই ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগার শিবির।