অসাধারণ বোলিংয়ের পরও চ্যালেঞ্জিং স্কোর আফগানিস্তানের। সেই রান তাড়া করতে গিয়ে ৪ উইকেটে ৬৪ বাংলাদেশের। এমন সমীকরণে ম্যাচে বাংলাদেশের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি। তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ৭৩ রান। তাতেই জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করে ফের ম্যাচ জমিয়ে তোলেন আফগান করিম জানাত। এরপর চার মেরে বাংলাদেশকে ২ উইকেটের জয় এনে দেন শরীফুল।
লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় টাইগাররা। দলীয় ৬ রানে পঞ্চম বলে ৪ রান করে ফজলহক ফারুকির বলে বোল্ড হন ওপেনার রনি তালুকদার। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হাসান শান্ত। শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন লিটন দাস। তবে দলীয় ৩০ রানে ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন শান্ত। স্পিনার মুজিবের বলে বোল্ড হন এই বাঁহাতি।
এরপর আর ৯ রান যোগ করতেই আউট হন লিটন। তার আগে ১৯ বলে ১৮ রান করেন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে নামেন তাওহিদ হৃদয়। এই অবস্থায় ইনিংসের ৭.২ ওভারের পর শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টি থামার পর আবার খেলা শুর হয়। রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে ব্যাট করতে থাকেন অধিনায়ক সাকিব।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, দলীয় ৬৪ রানে ১৭ বলে ১৯ রান করে সাকিবও ফিরে যায়। জয় নিয়ে দেখা দেয় শঙ্কা। ক্রিজে আসেন শামিম পাটোয়ারি। হৃদয় ও শামিম মিলে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। বাড়তে থাকে থাকে উত্তেজনা। দলীয় রান যখন ১৩৭, কাটা পড়েন শামিম পাটোয়ারি। তার আগে ২৫ বলে ৩৩ রান করেন এই অলরাউন্ডার। শামিন পিঠে নামেন মিরাজ। তার সঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের দিকে নিয়ে যায় হৃদয়।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬ রান। হাতে ছিল ৫ উইকেট। ওভারের প্রথম বলে ৪ মারেন মিরাজ। তবে এরপর টানা তিন বলে মিরাজ, তাসকিন ও নাসুমের উইকেট তুলে নিয়ে নাটক জমিয়ে তুলে আফগান পেসার জানাত করিম। শেষ দুই বলে প্রয়োজন হয় ২ রান। এ সময় ক্রিজে এসে চার মেরে সব নাটকের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন শরিফুল ইসলাম। হৃদয় ৩২ বলে ৪৭ ও শরিফুল ১ বলে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলো হৃদয়।
এর আগে শুক্রবার (১৪ জুলাই) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সে সময় আবহাওয়া ও কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে আফগানিস্তানকে আগে ব্যাট করতে পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন সাকিব।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা আফগানদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটারের কাউকে রান বড় করতে দেয়নি বোলাররা। টাইগারদের হয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। ১০ বলে ৮ রান করে সুইপ করতে গিয়ে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন হজরতউল্লাহ জাজাই। এরপর ২ চার ও ১ ছক্কায় ১১ বলে ১৬ রান করা আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। তার স্লোয়ার বলে ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে।
তিনে নেমে ৬ বলে ৮ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইব্রাহীম জাদরান। ৯ বলে ৩ রান করা করিম জানাতকে ফেরান সাকিব আল হাসান। এরপরই নজিবউল্লাহ জাদরানের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ নবি।
২৩ বলে ২৩ রান করা নাজিবউল্লাহ মিরাজের বলে লিটনকে ক্যাচ দিলে ভাঙে এই জুটি।
তার বিদায়ের পর আফগানিস্তানের রানের গতি বেড়ে যায়। উইকেটে আসা আজমতউল্লাহ ওমরজাই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন, হাত খোলেন মোহাম্মদ নবিও। ১৯তম ওভারে টানা দুই বলে সাকিবকে ছক্কা মারেন ওমরজাই। ওই ওভারের শেষ বলে অবশ্য তিনি আউট হয়ে যান। তার আগে ১৮ বলে করেন ৩৩ রান এই মারকুটে। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ বলে অপরাজিত থেকে ৫৪ রান করেছে নবি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৫৭/৮ (হৃদয় ৪৭*, শরিফুল ৪*, নাসুম ০, তাসকিন ০, মিরাজ ৮, শামীম ৩৩, সাকিব ১৯, লিটন ১৮, শান্ত ১৪, রনি ৪) লক্ষ্য ১৫৫ রান।
আফগানিস্তান ২০ ওভারে ১৫৪/৭ (নবী ৫৪*, মুজিব ০*; রশিদ ৩, ওমরজাই ৩৩, নাজিবউল্লাহ ২৩, জানাত ৩, ইব্রাহিম ৮, গুরবাজ ১৬, জাজাই ৮)
ফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তৌহিদ হৃদয়।