শেখ রাসেলের বিদায় এক যুগ পর আবাহনী-মোহামেডান ফাইনাল
গত সপ্তাহে বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান। মঙ্গলবার (১৬ মে) ফেডারেশন কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঢাকা আবাহনী।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লায় ৩০ মে। তবে, মঙ্গলবারের (১৬ মে) ম্যাচে ভাগ্য আবাহনীর অনুকুলেই ছিল। তা না হলে, ৮ মিনিটের মধ্যে ২ সহজ সুযোগ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হবেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিদেলী রিক্রট এমফলউদু।
এর মধ্যে প্রথমবার তিনি একেবারে খালি পোস্টে অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন, অন্যবার কিপারের গায়ে মেরে দেন।
এক সময় ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামন্টের ফাইনাল মানেই ছিল ঢাকা মোহামেডান। গত এক দশকে এই চিত্র পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা আবাহনী ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মোহামেডান নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আনতে পারেনি।
২০১১ সালে কোটি টাকার টুর্নামেন্ট সুপার কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের সর্বশেষ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফাইনালে ঢাকা আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা রেস থেকে ছিটকে গেছে ঢাকা আবাহনী। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল আবাহনী। এই শেখ রাসেলের বিপক্ষে হেরে ফাইনালে উঠা হয়নি ম্যারিও ল্যামোস শিষ্যদের। এবার ফেডারেশন কাপে সেই মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে আবাহনী।
৩৮তম মিনিটে রেজাউর রেজার লং পাস ধরে ডি বক্সে ঢুকে যান দানিয়েল কলিনদ্রেস। বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি (১-০)।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে আবাহনী। রাফায়েল আগুস্তো বল নিয়ে ঢুকে পড়েন ডি-বক্সে, কাট ব্যাক করে বল দেন সতীর্থ ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। ব্যবধান বাড়াতে কোনও ভুল করেননি তিনি। প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান ফাহিম (২-০)। ৭০তম মিনিটে ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে উঁচু করে শট নেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
ঝাপিয়ে পড়ে বল ফেরাতে চেষ্টা করনে শেখ রাসেলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। তবে সফল হননি তিনি। আবাহনী এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। ৭৭তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতো আবাহনী। তবে কলিনদ্রেসের শট বার পোষ্টে লেগে ফিরে আসে।
এরপর দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও স্কোর বোর্ডে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগামী ৩০ মে ফাইনালে কুমিল্লায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান।