শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে: নওফেল

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, সরকার এখন নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে।  এতে ছাত্র-ছাত্রীদের অভ্যস্ত হতে হলে ’পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির’ অন্তর্ভূক্ত বইগুলো পড়তে হবে।  স্মরণশক্তি নির্ভর সংস্কৃতি থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে।  তাদের উদ্ভাবনী নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ’পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তি বই পড়ার দক্ষতার মাধ্যমে তৈরি হয়।  এ সময় তিনি উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের এই কর্মসূচির জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করার আহবান জানান।  এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সকল কর্মীকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।

শনিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ’সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) অন্তর্ভুক্ত ’পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির’ চট্টগ্রাম বিভাগের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় তিনি এ আহবান জানান।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী বলেন, ছাত্র ছাত্রীরা বই শুধু পাঠ করলে হবে না, পাঠ দক্ষতাও বাড়াতে হবে।  পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরও স¤পৃক্ত করতে হবে। তিনি পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মশালার গুরুত্ব অনুধাবন করে কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন শিক্ষা উপমন্ত্রীকে।

প্রতিটি বিভাগীয় শহরে স্কিমভুক্ত উপজেলাসমূহের নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অবহিত করার জন্য এই ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা আয়োজন করা হয়।  এই কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার শিক্ষা অফিসার, কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ৬৪টি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণ অংশগ্রহণ করেন।  এই কর্মশালার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের ৬৪টি উপজেলার দুই হাজার তিনশত তেত্রিশটি (২৩৩৩) মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির বইপড়া কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।  এর ফলে আনুমানিক তিন লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার ছয়শত দশ (৩৯৬,৬১০) জন ছাত্রছাত্রী স্কিমের তালিকাভুক্ত বইগুলো পড়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারবে।  শুধু তাই নয়, তারা নিজেদের মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০ উপজেলায় ১৫ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।  এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ২৫ লাখ ছাত্র-ছাত্রী বই পড়ার সুবিধা পাবে।  বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র উক্ত কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ৪টি বিভাগে (ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা) কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী।  বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।  বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মোঃ মাহামুদ-উল-হক।  স্কিম প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ’স্ট্রেংদেনিং রিডিং হ্যাবিট অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস’র উপ-পরিচালক ড. আছিছুল আহছান কবীর।