শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ইসির টার্গেট

♦আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আছে -মো. জাহাংগীর আলম, ইসি সচিব  ♦ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি নিয়ে ত ভয় -পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সভাপতি, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেছেন, আমাদের দৃষ্টিতে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আছে। মঙ্গলবার সামাজিক সংগঠন সম্প্রীতির বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিরা যেন অংশ নিতে না পারে, সেই উদ্যোগ নিতে ইসির কাছে দাবি জানায় সংগঠনটি। একইসঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বানও জানান সংগঠনটির নেতারা।
সংখ্যালঘুরা ভোটে সহিংসতার আশঙ্কা কেন করছে? এ প্রশ্নের ইসি সচিব বলেন, এটা যারা আশঙ্কা করছে তারাই বলতে পারবে। আমাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে যে, বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কমিশনের দৃষ্টিতে শান্তিপূর্ণ আছে। এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেও কমিশন মনে করছে। পরবর্তী সময়ে কোনো পরিস্থিতির যদি উদ্ভব হয় তবে অবশ্যই কমিশন আইনগতভাবে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জাহাংগীর আলম বলেন, সম্প্রীতির বাংলাদেশ সংগঠন আমাদের কাছে মোট চারটি প্রস্তাবনা রেখেছে। চারটি প্রস্তাবনার বিষয়ে কমিশন তাদের আশস্ত করেছে যে, সেসব প্রস্তাবনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তি যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করেছি। একইসঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
লিখিত দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে ধর্মভিত্তিক প্রচারণা এবং তার ফলে সৃষ্ট পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তি যাতে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং শান্তিপ্রিয় নির্বাচনমুখী সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচনোত্তর সহিংসতা রোধে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
বৈঠক শেষে সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জাতীয় নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে, তাদের কপালে ভাঁজ পড়ে। আমরা এটা আর দেখতে চাই না। ইসিকে বলেছি, শক্তভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সম্প্রীতি বাংলাদেশের মতো অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো সহায়তা করবে। ইসি সহমত পোষণ করেছে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের মতো ব্ল্যাক অক্টোবর আর বাংলাদেশে দেখতে চাই না। যে ভয়াবহতা, নৃশংসতা, যে অত্যাচার প্রায় ৭১ সালকে মনে করিয়ে দেয়। সে জিনিসগুলো আমরা বাংলাদেশ থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে চাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে তাদের সরকারে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় দেখতে চাই না।
কীসের আতঙ্কে ভুগছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, আমরা ঘরপোড়া গরুর মতো, অতীতের ভয় থেকে এসেছি। সাবধানের কোনো মার নেই।