ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সর্বশেষ দুই ম্যাচে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও তার অন্যথা হলো না। লঙ্কানদের বোলিং তোপে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) ব্যাঙ্গালোরের বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৩.২ ওভারে ১৫৬ রানেই অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরের পথ ধরা ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে ছয়জনই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দুই ওপেনার ডেভিড মালান ও জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটে ইংল্যান্ডের শুরুটা খারাপ হয়নি। কিন্তু সপ্তম ওভারে মালানের (২৮) উইকেট নিয়ে থ্রি লায়ন্সদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে নিজের প্রত্যাবর্তনটাও দারুণভাবে রাঙান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
মালানের বিদায়ের মাধ্যমেই যেন ইংল্যান্ডের ইনিংসের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। কারণ এরপর যে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বাধ্যতামূলক পাওয়ারপ্লের শেষে ম্যাথুসের থ্রোয়ে রানআউট হন জো রুট। ইংলিশদের এ ব্যাটিং স্তম্ভ ১০ বলে ৩ রান করেন।
এরপর দলীয় ৬৮ রানে কাসুন রাজিথার বলে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। তার আগে এ ডানহাতি ব্যাটার ৩১ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ৩০ রান করেন।
দলের এমন বিপদের দিনে হাল ধরতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক জস বাটলারও। ৭৭ রানের চতুর্থ আউট হওয়ার আগে ৮ রান করেন ইংলিশ উইকেটরক্ষক। দলীয় ৮৫ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন লিয়াম লিভিংস্টোন। লাহিরু কুমারার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে ১ রান করেন তিনি।
ষষ্ঠ উইকেটে বেন স্টোকস আর মঈন আলীর ৩৭ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডের স্কোর ১০০ পেরোয়। দলীয় ১২২ রানে ম্যাথিউসের বলে কুশাল পেরেরার হাতে ১৫ রান করা মঈন ধরা পড়লে এ জুটি ভেঙে যায়। পরের ওভারেই বিদায় নেন ক্রিস ওকস। রাজিথার বলে সামারাবিক্রমাকে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে এক প্রান্ত আগলে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন স্টোকস। কিন্তু ৩১তম ওভারের প্রথম বলে তিনিও হার মানেন। লাহিরুর বলে বদলি ফিল্ডার দুশান হেমস্তের হাতে ক্যাচ দেন এ অলরাউন্ডার। তার আগে ৭৩ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন স্টোকস।
স্টোকসের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। ১৯ বলের মধ্যেই ইংলিশদের শেষ দুই উইকেট তুলে নেয় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। একটি করে চার-ছয়ে ডেভিড উইলির অপরাজিত ১৪ রানের ওপর ভর করে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দেড়শ পেরোয়।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল লাহিরু কামারা। কাসুন রাজিথা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস দুইটি করে উইকেট নেন। এছাড়া, মহেশ থিকসানা একটি উইকেট শিকার করেন।