লক্ষ্য নির্বাচন, দেশে আসছে অবৈধ অস্ত্র

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক চোরাকারবারিদের সহায়তায় পাশের দেশ থেকে দেশে ঢুকছে ব্যাপক অবৈধ অস্ত্র। মূলত দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসব অস্ত্রের অবৈধ আমদানি।

সীমান্ত পার করে প্রথমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মজুদ করা হয়। এরপর বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে এসব অস্ত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সারাদেশে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, নাফ নদী ব্যবহার করে এসব অস্ত্র আনা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, উঠতি বয়সী সন্ত্রাসীসহ নানা পর্যায়ের অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে এই অবৈধ অস্ত্র।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজার এবং আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন রোহিঙ্গারা। ভাষাগত কিছুটা মিল থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছে অনেক রোহিঙ্গা। এছাড়া মাদক চোরাচালানকারীদের আধিপত্যের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই ঘটছে হতাহতের ঘটনা। প্রতিনিয়তই কোনও না কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়। এখনই লাগাম টানতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। এছাড়া সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের ক্ষমতা জানান দিতেও অনেকেই এসব অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করছে। বেশিরভাগই অস্ত্রই যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে।

র‌্যাব বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এমনিতেই দুর্গম এলাকা। ছোট্ট এ অঞ্চলে তিনটি দেশের সীমান্ত। এ অঞ্চলে অনেক উঁচু উঁচু পাহাড়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সীমান্ত অরক্ষিত থেকে যায়। অভিযানের সময় দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সেখানে টিকে থাকা খুবই দুষ্কর। কোনও রাস্তা নেই, পেট্রোলিং করা যায় না। পুরোটাই ফুট পেট্রোলিং করতে হয়। মূলত এসব কারণেই পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আসা সম্ভব।

গোয়েন্দারা জানান, মিয়ানমার ও ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে অস্ত্র ঢুকছে— তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, বিপণন, বিতরণ বা এজেন্ট হিসেবে কারা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কাদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে— এসব বিষয়ে বেশ কিছু গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে র‌্যাব এ নিয়ে কাজ করছে।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে রাজধানীতে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে অস্ত্র পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তারা এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে কাট আউট পদ্ধতিতে। ফলে অস্ত্রের মূল সরবরাহকারী বরাবরই থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।