রোড টু ইলেকশন উৎসাহ কম আতঙ্ক বেশি

# শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে জাতীয় পার্টি # দলছুটরাও শামিল হবে ভোটে # বয়কটের ঘোষণায় নিরপত্তাহীনতায় ভোটাররা

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বুধবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণা করেন। এ ঘোষণাকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলগুলো স্বাগত জানালেও ভোট না হতে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো।
ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বলছে, কোনোক্রমেই তারা ঘোষিত তফসিলে ভোট হতে দেবে না। অন্যদিকে, ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া তৃণমূল বিএনপি। দলটি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে তারা। এর অংশ হিসেবে ১৮ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে তৃণমূল বিএনপি। এদিকে, সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা না দিলেও দলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দর কষাকষি শেষে দলটি নির্বাচনে অংশ নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপির ব্যানারে নয়- দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বড় কিছু রাজনৈতিক দলের একটি বিপুল সংখ্যক নেতা। আর ক্ষমতাসীন দল ও তার মিত্র দলগুলোর প্রার্থীরা তো মাঠে থাকবেই। সবমিলিয়ে ভোটের মাঠে অভাব হবে না প্রার্থীর! তবে বিএনপির মতো একটি বড় দলের বয়কটের মুখে নির্বাচনে ভোট দিতে কতটা আগ্রহী হবেন ভোটাররা- এখন সেটাই দেখার বিষয়।
জানতে চাইলে মিরপুর শেওড়াপাড়ার শাহিনা মনি দেশ বর্তমানকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৮ সালে যশোরে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। তবে ওইদিন ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরে ভোট না দিয়েই ফিরে আসি। এরপর ভোটদানে আগ্রহ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছি। উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচন সামনে এলেও ভোট দেয়ার চেষ্টা করিনি। তিনি বলেন, ভোটের সময় অনেক জায়গায় মারামারি, হামলা-ভাঙচুর হয়। নির্বাচন এলেই টিভি চ্যানেল আর পেপার-পত্রিকায় শুধু সহিংসতার খবর। এসব জানার পর কি ভোটকেন্দ্রে যেতে মন চায়?
তিনি বলেন, সাধারণ ভোটারদের ওপর প্রার্থীদের আস্থা নেই। তারা রাজনৈতিক সহিংসতা, কোন্দল আর কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত। ভোটারদের কাছে নির্বাচন উৎসবের, আনন্দের। অথচ এখন কোনো নির্বাচনই স্বস্তির নয়। সবসময় একটা অজানা আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করে। এ কারণে আমার মতো অনেকে ভোট দিতে চান না। শাহিনা মনি’র মতো হাজার হাজার ভোটার এখন ভোটবিমুখ। যার প্রমাণ মিলেছে গত কয়েক বছরে। দেশের বিভিন্ন সিটি, উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিনিয়ত কমছে ভোট পড়ার হার।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য মতে, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভোট বর্জনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচন। চোখে পড়ার মতো ভোটার উপস্থিতি না থাকায় সেই নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন ওঠে। ভোটার উপস্থিতি নেমে আসে ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশে। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ওই নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। এখন চলছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন বর্জনের প্রবণতা আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে বেশির ভাগ ভোটার খুশি নন।
স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার তলানিতে নামতে থাকা সুখকর নয় বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকসহ পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট পড়ার হার কমে এসেছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এর নেপথ্যে তৃণমূলে রাজনৈতিক নেতাদের অবমূল্যায়ন, ব্যবসায়ীদের প্রধান্য ও মনোনয়ন দেয়া, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোটের ফলাফল উল্টিয়ে দেয়া, ভোটকেন্দ্র থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া, সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেয়া অন্যতম কারণ। যদিও তারা বলছেন, এমন অবস্থার উন্নতি করা শুধু নির্বাচন কমিশনের একার দায়িত্ব নয়; এই দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দল, সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার।
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাব, পাল্টাপাল্টি দোষারোপের প্রবণতা, রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ, সহিংসতা, ভোট বর্জনরীতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ইসির দুর্বলতা এবং বড় দুই দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় ভোটারদের আস্থায় চিড় ধরেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় কমছে ভোট পড়ার হার। সেই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে বাড়ছে অনীহা। গত এক দশক ধরে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট কম পড়ার নেপথ্যে এমন একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য মতে, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভোট বর্জনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচন। চোখে পড়ার মতো ভোটার উপস্থিতি না থাকায় সেই নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন ওঠে। ভোটার উপস্থিতি নেমে আসে ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশে। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ওই নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। এখন চলছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন বর্জনের প্রবণতা আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে বেশির ভাগ ভোটার খুশি নন।
স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার তলানিতে নামতে থাকা সুখকর নয় বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকসহ পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট পড়ার হার কমে এসেছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এর নেপথ্যে তৃণমূলে রাজনৈতিক নেতাদের অবমূল্যায়ন, ব্যবসায়ীদের প্রধান্য ও মনোনয়ন দেয়া, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোটের ফলাফল উল্টিয়ে দেয়া, ভোটকেন্দ্র থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া, সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেয়া অন্যতম কারণ। যদিও তারা বলছেন, এমন অবস্থার উন্নতি করা শুধু নির্বাচন কমিশনের একার দায়িত্ব নয়; এই দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দল, সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার।
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাব, পাল্টাপাল্টি দোষারোপের প্রবণতা, রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ, সহিংসতা, ভোট বর্জনরীতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ইসির দুর্বলতা এবং বড় দুই দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় ভোটারদের আস্থায় চিড় ধরেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় কমছে ভোট পড়ার হার। সেই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে বাড়ছে অনীহা। গত এক দশক ধরে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট কম পড়ার নেপথ্যে এমন একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।