রাত পোহালেই রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দুই সিটির ভোটে নেই মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এর আগে গত ১২ জুন বরিশাল ও খুলনা সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন অংশ নিলেও সিলেট ও রাজশাহীর ভোট দলটি বর্জন করায় নির্বাচনী উত্তাপ নেই বললেই চলে। তবে দুই সিটির ব্যালট পেপারে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর প্রতীক ‘হাতপাখা’ থেকে যাবে। শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাজশাহীর এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সিলেটে আনোয়ারুজ্জামান জয়ের ব্যাপারে নির্ভার।
তবে সিলেটে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। কারণ সিলেটে মাঠে-ময়দানে থাকা নেতাদের কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছ। সেই ক্ষোভ যদি গাজীপুরের মতো ফুসে উঠে বিপদ ঘটাতে পারে। কারণ ২০১৩ ও ২০১৮ সিটি নির্বাচনে বদরুদ্দিন কামরানকে দলীয় বিভক্তিই হারিয়েছিল। এবার সে বিষয়টি মাথায় রেখে শুরু থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আনোয়ারুজ্জামানের পক্ষে প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সার্বক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ পালা করে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বিবাদমান নেতাকর্মীদেরকে আনোয়ারুজ্জামানে পক্ষে মাঠে নামিয়েছেন।
এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পাটির প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকা না থাকার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি ইভিইমে নির্বাচনে তার পরাজয়ের কারণ উল্লেখ করে পাটির কেন্দ্রীয় দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। কেন্দ্রে যদি ভোট বর্জনের নির্দেশ দেয় তবে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে ভোট থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি মাঠের প্রচারণায় রয়েছে অনেকটা না থাকার মতো।
প্রচারণার শেষ দিনে দুই সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিরামহীনভাবে মধ্য রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গেছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ করেছেন রাজশাহীর জাতীয় পাটির মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নিয়মিত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গণসংযোগ করেছেন। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র প্রার্থীরা।
রবিবার (১৮ জুন) সিলেট সিটি নির্বাচনে ২১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় পাটির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। নির্বাচিত হলে সিলেট শহরকে একটি আধুনিক নগরীতে পরিণত করার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র প্রার্থীরা।
শেষ সময়ে নৌকা ও লাঙ্গলের মেয়রপ্রার্থীরা প্রচারণায় সরব থেকেছেন। তবে মাঠে কোনো তৎপরতাই নেই জাকের পাটির গোলাপ প্রতীকের।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকারপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন একাধিক পথসভা, জনসভায় বক্তব্য রেখে ভোটদের কাছে ভোট প্রার্থণা করেছেন। বেশকিছু জায়গায় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নেতৃত্বে নৌকার প্রার্থীর মিছিল বের হয়।
আওয়ামী লীগের রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০২৩ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাক হোসেন জানান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নৌকা প্রতীকে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে বৃষ্টি পর্যন্ত উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়েছেন ১৮ দিন ধরে।
নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নের ধারা চলমান রাখতে ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নৌকা মার্কায় ভোটের কোনো বিকল্প নেই। আর আমরা শুরু থেকেই বদলে যাওয়া রাজশাহীর উন্নয়ন কাজ নগরবাসীর কাছে তুলে ধরেছি।
এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বরং সন্তুষ্টি প্রকাশ করে উৎসবমুখরভাবেই জনসংযোগে ব্যস্ত জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন।
এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ খুব সুন্দর আছে। আমরা শেষপর্যন্ত আছি। নির্বাচন বয়কট করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আর শেষ সময়ে ভোটারদের মাঝে নিজেকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা একটু বেশিই আছে।
সাইফুল ইসলাম জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী মহানগরের সভাপতি। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই তিনি সুবিধা করতে পারছিলেন না। ইশতেহার ঘোষণার সময় নিজেরা হট্টগোলে জড়ান। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রার্থী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, তাঁর কোনো দল নেই।
এর আগে জাপা প্রার্থীর প্রচার মিছিলে লাঙ্গল প্রতীকের পরিবর্তে নৌকা প্রতীকের স্লোগান শোনা যায়। তিনি কোনো নির্বাচনী ক্যাম্প করেননি। জেলা ও মহানগর জাপার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাত্র চারটি মাইকে তাঁর প্রচার কার্যক্রম চলছে। নগরের খুব কম জায়গায় তাঁর পোস্টার চোখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার বিকেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে কেন্দ্রের অনুমতি চেয়েছেন জাপার প্রার্থী।
সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ইভিএমে ভোট করে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। ভোটের রেজাল্ট হয়েই আছে। ২১ জুন ভোটে কী ফলাফল হবে, তা এখন বলে দেওয়া যায়।
তাঁর দাবি, ইভিএমে ভোট করে খুলনা ও বরিশালে কারচুপি করা হয়েছে। বরিশালের মেয়র প্রার্থীর ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন দলের প্রার্থীর ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটা তিনি বলতে পারেননি। হাতপাখার প্রার্থী কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা সেটাই শুনেছেন।
রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থী নিয়ে তেমন উত্তাপ না থাকলেও কাউন্সিলরদের প্রচার প্রচারণার কারণে কোথাও কোথাও সহিংসতা, উত্তেজনা আবার কোথাও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সোমবার (১৯ জুন) সকাল থেকেই তাই সরগরম হয়ে উঠে রাজশাহী। পাড়া-মহল্লায় বইছে প্রচার প্রচারণার উত্তাল ঢেউ। এই আষাঢ়েও বইছে তাপপ্রবাহ।
তবে তীব্র এই রোদ ও গরম উপেক্ষা করেই সোমবার সকাল থেকে চলছে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলদের গণসংযোগ। দুপুর থেকে শুরু হবে শেষ দিনের মাইকিং ও প্রচার মিছিল। এরপর রাত পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারপত্র বিলির কাজ চলবে জোরেশোরে।
রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেনের জানান, মধ্য রাত থেকেই প্রচার প্রচারণা শেষ হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জুন) সকাল থেকে কেন্দ্র কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সরঞ্জাম পৌঁছানোর কাজ শুরু হবে।
তিনি জানান, মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন ভোটার রয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৬ জন। মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১২৪ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন; অর্থাৎ ৩টি পদে সর্বমোট ১৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
আগামী ২১ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১৫২টি ভোট কেন্দ্রের এক হাজার ১৭৩টি কক্ষে ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও প্রার্থীদের প্রচারণা ছিল জমজমাট। শেষ দিয়ে সব প্রার্থী সাধ্যমতো কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন মধ্যরাত পর্যন্ত । তার আগে গত শনিবার মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্মার্ট সিটি বিনির্মাণে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
অপর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ২১ দফা ইশতেহারে পরিকল্পিত আধুনিক নগরীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইশতেহার ঘোষণার পর থেকে সভা-সমাবেশে প্রার্থীরা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রæতির দিকে ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয় পাটির প্রার্থীর চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় পাটির প্রার্থীর অভিযোগ, বহিরাগতদের শহরে এনে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
এ ব্যাপারে তিনি গত শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তার দাবি, সিলেটের মুরারী চাঁদ কলেজ ও সিলেট সরকারি কলেজের হোস্টেল ভোটের সময় বন্ধ রাখতে হবে, যাতে বহিরাগতরা সেখানে অবস্থান করতে না পারে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচারণায় যোগ দিতে দেশের অন্য এলাকায় থেকে দলের নেতাকর্মীরা এসে ভিড় করছেন সিলেটে।
এরই অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিলেটে প্রচারণা চালিয়েছে।
আনোয়ারুজ্জামানের পক্ষে প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সার্বক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও নগরীতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামানের পক্ষে প্রচারণা চালাতে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ থেকে সিলেটে এসেছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা।
জাতীয় পাটির প্রার্থীর প্রচারণায় দলটির স্থানীয় নেতাদের অনেককেই দেখা গেলেও জাতীয় পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য নেতাদের দেখা যায়নি।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান নির্বাচন বয়কট করেছেন। জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল আলম কর্মী সংকটে প্রচারে পিছিয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান মিয়া, আব্দুল হানিফ কুটু, মোশতাক আহমদ রউফ মোস্তফা ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ছালাহ উদ্দিন রিমন ছোট পরিসরে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত আছেন।
জরিপে এগিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউরোপভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াইজ জিওভি-এর সহযোগী সংস্থা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানুভারিং আর্কিটেকচার সিলেটে ‘ভোট জরিপ’ করেছে।
জরিপ অনুসারে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পাটির প্রার্থীর চেয়ে অন্তত ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত এপ্রিল থেকে শুরু করে ৫২ দিনের মাঠ জরিপের পর গত রোববার এর ফলাফল প্রকাশ করে সংস্থাটি।
১৯০ ভোটকেন্দ্রের ১৩২টিই গুরুত্বপূর্ণ
সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে মোট ১৯০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়নের পরিকল্পনাও করেছে পুলিশ। ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ শব্দটি এড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তালিকা অনুযায়ী নগরীর ৪২ ওয়াডের মধ্যে ১৮ ওয়াডের সবকটি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’। মাত্র একটি ওয়ার্ডের সব কেন্দ্র স্বাভাবিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) সুদীপ দাস গনমাধ্যমকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দূরত্ব, কেন্দ্রে সীমানা প্রাচীর না থাকা ও প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি ইত্যাদি বিবেচনায় এ সব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভ্রাম্যমান ইউনিট, ক্রিটিক্যাল রেসপন্স ইউনিট ও আর্মার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ারও থাকবে।
আগামী ২১ জুন সিসিক নির্বাচনের ১৯০ কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৬৪ কক্ষে ইভিএম মেশিনে ভোট হবে। নগরীতে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ জন।
সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৮ প্রার্থীর পাশাপাশি ৪২টি ওয়ার্ডে ২৭৩ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ১৪ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৮৭ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।