আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি এই সময়ে গতকাল বুধবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকেই ঝুম বৃষ্টি নেমেছে রাজধানীতে। রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অনেকেই পড়েন ভোগান্তিতে। সেই বৃষ্টি অব্যাহত ছিল রাতভর। এতে ডুবে গেছে রাজধানীর অনেক এলাকার অলিগলি। এখনও কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি, আবার কোথাও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে রাস্তায় পানি, অন্যদিকে বৃষ্টিতে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও কমে গেছে। এর ফলে সকালে কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। রাজধানীর রাজারবাগ, শান্তিনগর, বেইলি রোড, মালিবাগ, মৌচাক, পল্টন, মতিঝিল, ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকার অধিকাংশ গলিতে বৃষ্টির পানি আটকে আছে বলে খবর পাওয়া গেছে।ফলে বিভিন্ন প্রয়োজনে যারা রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। চরম বিপাকে পড়েছেন অফিস ও স্কুলগামীরা। আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী জিতু সরকার জানান, সন্ধ্যা থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, সকালে ঘুম থেকে উঠেও দেখি বৃষ্টি। রেডি হয়ে বের হয়ে প্রথমে কিছু পাচ্ছিলাম না। এরপর রিকশা পেলেও দ্বিগুণ ভাড়া চাইছে। কিছুটা ভোগান্তি তো হয়েছেই। আবার বৃষ্টির কারণে আমার মতো অনেকেই দেখলাম ছাতা মাথায় দিয়ে, কেউ আবার রেইনকোট পরেই স্কুলের দিকে রওনা হয়েছে। প্রায় একই কথা জানায় ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী আয়ান আহমেদ। তার কথায়, বৃষ্টি তো থামছেই না। মনে হচ্ছে আজও সারা দিন এই বৃষ্টি হবে। গলির হাঁটু পানি পার হয়ে রেইনকোট গায়ে দিয়েই স্কুলে এলাম।
পুরানা পল্টনে অফিস বনশ্রী বাসিন্দা মলি সরকারের। তিনি জানান, ৯টায় অফিসে থাকাই লাগবে। এদিকে বৃষ্টিতে রিকশা ও বাসের সংখ্যাও কম। পরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি নিয়ে অফিসে আসলাম। বৃষ্টি হলেই এই শহর আর বাসের যোগ্য থাকে না। ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। এদিকে রাজধানীর বংশালে আলু বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানির মাড়িয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক খাম্বায় সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. ইব্রাহীম (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে জুতার কারখানার শ্রমিক ছিল। বুধবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুটিকে উদ্ধারকারী পথচারী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বৃষ্টির পানি জমে ছিল সড়কে, বৈদ্যুতিক খাম্বার পাশ দিয়ে ওই শিশুটি হেঁটে যাচ্ছিল, সেখানে খাম্বার হাত লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১০টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং আশেপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।
বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।